ব্যবসাবান্ধব মূসক ব্যবস্থায় বিসিআই’র তিন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

২০১৯-২০ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বেশকিছু বিষয়ের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেও ক্ষুদ্র মাঝারি পণ্য ও সেবা খাতে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও সামর্থ্য অনুযায়ী একটি ভোক্তা ও ব্যবসাবান্ধব মূসক ব্যবস্থা বলবৎ করার জন্য তিনটি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর বিসিআই’র প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির মহাসচিব ড. মো. আজিজুর রহমানের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিসিআই’র সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরীর (পারভেজ) বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম বাজেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এটা ১৭তম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রথমবারের মত এ বাজেট উত্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করায় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যা বিসিআই’র বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন।

বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মূসক মুক্ত টার্নওভারের সীমা ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার করের ঊর্ধ্বসীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আইটেম মূসকের আওতা মুক্ত রাখা হয়েছে। এ জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তবে মূসক ব্যবস্থায় ভোক্তা ও দেশের ৮৫ শতাংশ ক্ষুদ্র মাঝারি পণ্য ও সেবা খাতে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও সামর্থ্য অনুয়ায়ী একটি ভোক্তা ও ব্যবসা-বান্ধব মূসক ব্যবস্থা বলবৎ করার জন্য আমাদের নিম্ন লিখিত প্রস্তাবগুলো পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

১. টার্নওভারের ঊর্ধ্বসীমা ৫ কোটি নির্ধারণ করে করের হার প্রস্তাবিত ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা।
২. পণ্য ও সেবাখাতে উপকরণ রেয়াত গ্রহণ করা না গেলে শিল্প ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য করা এবং
৩. ২০১৮-১৯ বাজেটে বিদ্যমান সকল অব্যাহতি খাতকে প্রদত্ত অব্যাহতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তাব করছি।

এতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট এবং ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য কর্পোরেট কর হার হ্রাস করা প্রয়োজন। সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক না করে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বিশেষ রেয়াতি কর সুবিধা প্রদানের জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি।

এতে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, আমাদের সামনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি, বাজেট ঘাটতি এসব বড় বড় চ্যালেঞ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে।

এমএএস/আরএস/পিআর

টাইমলাইন