প্রবৃদ্ধি টেকা নিয়ে সিপিডির সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯

বাংলাদেশে যে হারে বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭-৮ শতাংশ ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল লেকশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিমত তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় বলেন, যেই সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সেই সমাজ আজ হোক কাল হোক টেকে না, এগোতে পারে না। সেই সমাজগুলোতে প্রবৃদ্ধির হারে পতন ঘটে। যেভাবে বাংলাদেশে বৈষ্যম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ৭, ৮, ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি টেকানো কষ্টকর হবে। এটা ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক তত্ত্বে সত্য।

‘বাংলাদেশ তো সৃষ্টি হলো বৈষম্যের কারণে। দেশটা তো টিকলোই না বৈষম্যের কারণে। আপনারা বুঝতে পারছেন কোন জায়গাতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাই হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। তো ওই বৈষম্য যদি দেশের ভেতরে বাড়তে থাকে তাহলে আগামী দিনে আমি কেমন করে ওই জায়গাতে (সমৃদ্ধ বাংলাদেশ) পৌঁছাবো’ বলেন দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছানোর সঙ্গে জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ঐকমত্য আছে। এটার ভিতরে কোনো দ্বিমত নেই। বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, গর্বিত বাংলাদেশ হিসেবে একটা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় না কোনো মতামতের পার্থক্য আছে। আমরাও সেটার সঙ্গে একমত এবং ওটাকে নিশ্চিত করার জন্য যে পদক্ষেগুলো নেয়া দরকার সেই চিন্তা থেকেই করা হচ্ছে। কাউকে বড় বা ছোট করার জন্য নয়। এটা কোনো একক সরকার করে দেবে এটাও আমরা মনে করি না। এটা ধারাবাহিকতার অংশ। গত ১০ বছর ধরে এটা হয়ে এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে হয়ে এসেছে।

কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমেও করের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। একটার সঙ্গে একটা সম্পৃক্ত। তাহলে আপনি বিদেশির টাকা আটকাবেন, কালো টাকা বিনিয়োগ করতে দেবেন। তাহলে বৈপরীত্ব হচ্ছে। পুরো বাজেটের রাজস্ব পদক্ষেপ যদি দেখি- স্বচ্ছল-উচ্চ আয়ের মানুষকে অনেক বেশি সুবিধা দিচ্ছে। বিকশিত মধ্যবিত্ত এটা থেকে খুব বেশি উপকৃত হবে না।

গড় আয়ুর তথ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বচ্ছল যারা আছে তাদের গড় আয়ু ৭২-৭৩ বছরের বেশি। আর গরিব মানুষরা কিন্তু বাঁচে ৭০ বছরের নিচে। ওই দুটিকে গড় করে গড় আয়ু করা হয়েছে।

‘আপনি যদি একটি উন্নত সমাজে যান তাহলে গড় আয়ু বললে ৯০ জনেরই ওর ভিতরে আছে। আর আমাদের দেশে বললে একজনের ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, আরেকজন মাইনাস ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। দু’টি গড় করে ৫১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। গড় পেয়েছেন না? মাথাটা রেফ্রিজারেটরের মধ্যে, পা-টা ওভেনের মধ্যে, বডি টেম্পারেচার গড়ে ঠিক আছে,’ বলেন দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, গরিব মানুষের ছেলে-মেয়ে ঝরে পড়ে বেশি। আপনাদের ছেলে-মেয়ারা তো স্কুল থেকে ঝরে পড়ে না। গড় যেয়ে তো পড়ে তার ওপরে। ইশতেহারে বলা হয়েছে গরিব মানুষের পক্ষে। এইবারের ইশতেহার সুগঠিত, সুলিখিত, সুচিন্তিত একটি দলিল। এটাকে আমি সিরিয়াসলি নেয়। যারা লিখেছেন তারা নেন কি না জানি না। আমি খুব সিরিয়াসলি নেয়। সেখানে বলা আছে- অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি সুষম সমাজ বিকশিত হবে আগামী দিনে এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে যাবে।

তিনি বলেন, এটা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীর শেষ বছর। অর্থমন্ত্রী তো সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীর শেষ বছরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোনো কথাই বলেননি। তিনি বলেন, ব্যাংক-পুঁজিবাজার থেকে যারা অন্যায্য সুবিধা নিয়েছেন, তারা পরিবর্তন আনতে চান না, স্বচ্ছতা চান না।

এমএএস/এনএফ/এমএস

টাইমলাইন