জাগো নিউজের বস্তুনিষ্ঠতা ধরে রাখার আহ্বান জানালেন এমপি নিশীতা
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা বলেছেন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে জাগো নিউজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সংবাদমাধ্যমটি দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
জাগো নিউজের যুগ পূর্তি উপলক্ষে রোববার (১০ মে) জাগো নিউজ কার্যালয়ে এসে তিনি সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছা জানান।
এমপি সেলিনা সুলতানা নিশীতা বলেন, জাগো নিউজ এখন বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এক যুগ পেরিয়ে সংবাদমাধ্যমটি যেন আরও বহু বছর সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে— সেটিই প্রত্যাশা।
তিনি জাগো নিউজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাংবাদিক, ক্যামেরার পেছনের কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানান তিনি।
নিশীতা বলেন, বিগত দিনে জাগো নিউজ যেভাবে কোনো দল–মত নির্বিশেষে সংবাদ পরিবেশন করে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে, সামনের দিনেও ইনশা আল্লাহ সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সংসদে প্রতিনিধিত্ব এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে তিনি নিজেও নানা বাধার মুখোমুখি হয়েছেন। ইডেন মহিলা কলেজে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী, শিশু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চান।
তার ভাষায়, আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতায় নারীরা এখনো অনেক বাধার সম্মুখীন হয়। আমি নিজেও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। চেষ্টা করব এসব বাধা অতিক্রম করে নারী যেন ঘরে–বাইরে নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, নারীদের শুধু অংশগ্রহণ করলেই হবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায়ও যেতে হবে। আর সে জন্য নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা জরুরি।
নিশীতা বলেন, একটি নারীকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। একজন নারী যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, তখন তার জন্য অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।
আগামীর বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের সেবা ও কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। সরকার ও সংসদের সদস্যরা প্রায় ২৪ ঘণ্টাই দেশের মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী দিনের বাংলাদেশ একটি সুন্দর, মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ হোক। যেখানে গুম থাকবে না, খুন থাকবে না, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, আইনের শাসন ও মানবাধিকার থাকবে।
সরকারের সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তার মতে, দেশের স্বার্থে ইতিবাচক সমালোচনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাকে আমি পবিত্র আমানত মনে করি। সরকারি দল, বিরোধী দল ও দেশের জনগণ—সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
কেএইচ/এমএএইচ/