উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় দেওয়া হচ্ছে হামের টিকা
দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। টিকা দেওয়া হবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
আজ যেসব উপজেলায় টিকা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো বরগুনা সদর, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, যশোর সদর, নাটোর সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, শ্রীনগর ও লৌহজং এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিট্যাগ) এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু—আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক—এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, বর্তমানে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মে’র মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্কুল, মাদরাসা, শ্রমঘন এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতেও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুর ক্ষেত্রে শুধু টিকা প্রয়োগ করা হবে। অসুস্থ শিশুকে সুস্থ হওয়ার পর টিকা নিতে বলা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
এমএমএআর