আশা করি ইরানে হামলা চালাতে হবে না: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজন হবে না। যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে হামলা চালাবে বলে হুমকি দেওয়ার পর এমন নরম সুরে কথা বললেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলছেন ও এখনো তিনি দেশটিতে সামরিক অভিযান এড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমার কথা হয়েছে, ও পরিকল্পনাও আছে।
মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমাদের ‘একটি দল’ ইরানের দিকে যাচ্ছে ও আশা করি, এগুলো ব্যবহার করতে হবে না।
এদিকে, বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্র যখন কঠোর বক্তব্য দিচ্ছে এবং ইরানও তীব্র পাল্টা হুমকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘বিধ্বংসী পরিণতি এড়াতে’ পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া এবার সীমাবদ্ধ হবে না, বরং তা হবে ‘তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত’।
আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ‘গুরুতর দুর্বলতা’ রয়েছে ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বহু মার্কিন ঘাঁটি আমাদের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি এমন কোনো ভুল হিসাব করে, তবে তা মোটেও ট্রাম্পের কল্পনার মতো হবে না।
উপসাগরীয় অঞ্চলের যে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ‘স্পষ্ট উদ্বেগ’ রয়েছে। এটি পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলায় ফেলবে, আঞ্চলিক ও মার্কিন অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সেই সঙ্গে ইরানে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হবে।
ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেশি কথা বলছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরান এই কর্মসূচির মাধ্যমে পারমাণবিক বোমা বানাতে চাইছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তেহরানকে অবশ্যই চুক্তি করতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছানো মার্কিন নৌবহর আঘাত হানতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম।
এদিকে, তেহরানে ব্যানার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে সরকারের অবস্থান শক্তিশালী করতে। একটি বিশাল পোস্টারে এমন ছবি দেখা গেছে, যেখানে মনে হচ্ছে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ধ্বংস করা হয়েছে।
সূত্র: ডন
এসএএইচ