ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: বংশালের অধিকাংশ রাস্তায় এখনও ‘কোমর পানি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২২

অডিও শুনুন

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে টানা বৃষ্টিতে পুরান ঢাকার বংশালের অধিকাংশ রাস্তা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আবার কোমরপানি পর্যন্ত হয়েছে। এতে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির নিচ তলায় ময়লা পানি ঢুকে পড়েছে। এ জলাবদ্ধতার কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা বর্ষণের ফলে গতকাল সোমবার (২৪ অক্টোবর) ভোররাত থেকে পুরান ঢাকার বংশালে পানি জমতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির পরিমাণও বাড়ে। রাত ১০টার দিকে প্রায় সব রাস্তা তলিয়ে যায়। কিছু কিছু গলিতে কোমর থেকে গলা পর্যন্ত পানি জমে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত কোমরের নিচে পানি নামেনি। এতে এ এলাকার মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: বংশালের অধিকাংশ রাস্তায় এখনও ‘কোমর পানি’

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সরেজমিন দেখা যায়, গুলিস্তান থেকে সদরঘাট যাওয়ার রাস্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণিতে হাঁটুপানি জমে আছে। পশ্চিম পাশের এলাকা নাজিরা বাজার, সিক্কাটুলী, সিদ্দিক বাজার, কাজী আলাউদ্দিন রোড, নয়াবাজার, বাংলাদেশ মাঠ এলাকার প্রত্যেকটি রাস্তায় হাঁট থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। এ জলাবদ্ধতার পানি প্রত্যেকটি বাসাবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকেছে। ফলে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ির পানির পরিমাণ এত বেশি হওয়ায় রিকশাও চলাচল করতে পারছে না। এক কথায় এ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।

এ এলাকায় রড-সিমেন্টের দোকানের সংখ্যা বেশি। কিন্তু সড়কে পানি না কমায় দোকানপাট খুলতে পারছেন না দোকান মালিকরা। সকাল থেকেই প্রত্যেক দোকানমালিক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: বংশালের অধিকাংশ রাস্তায় এখনও ‘কোমর পানি’

আবুল খায়ের নামের এক দোকানমালিক বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি নেই। পানি কমলে দোকানপাট খুলবো। কিন্তু সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পানি কমেছে মাত্র ২ ইঞ্চি। বাকি পানি কখন কমবে, দোকানপাট কখন খুলবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

সিক্কাটুলীর বাসিন্দা সোহেল রানা মোবাইলফেনে জাগো নিউজকে বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বংশালের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে গেছে। এরমধ্যে গতকালের টানা বৃষ্টিতে সব রাস্তাঘাট তলিয়ে আছে। বাসা থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। যে গতিতে পানি কমছে, সড়কের পানি নামতে আরও অন্তত দুই দিন লাগবে। তিনি বলেন, এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের লাইনগুলো অনেক পুরোনো। অনেক লাইন অকেজো হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টি হলে পানি যায় না। সিটি করপোরেশন লাইনগুলো ঠিক করছে না।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: বংশালের অধিকাংশ রাস্তায় এখনও ‘কোমর পানি’

কাজী আলাউদ্দিন রোডের মুদি দোকানি সানাউল্লাহ বলেন, রাস্তা থেকে তার দোকান তিন ফুট উঁচু। তারপর বৃষ্টির পানি ছুঁইছুঁই ছিল। দোকানে পানি ঢুকলে সব মালামাল নষ্ট হয়ে যেতো। যদিও পুরান ঢাকার অনেক দোকানে পানি ঢুকছে।

এমএমএ/এমআইএইচএস/জেআইএম

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।