গ্যাস সংকটে দেশে ৪ লাখ টন সারের ঘাটতি রয়েছে: শিল্পসচিব
গ্যাস সংকটের কারণে দেশে ৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি সারের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মাত্র তিন-চার মাস গ্যাস পাচ্ছি (সার কারখানায়)। জুন মাস পর্যন্ত কৃষির জন্য যে সার দরকার, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রতি বছর লক্ষ্য থাকে, ৬ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে এই জুন মাসে মজুত থাকবে। কিন্তু বর্তমান হিসাবে মাত্র ২ দশমিক ১৭ লাখ টন থাকবে। তার মানে ৪ লাখ টনের ওপরে সংকট এখন পর্যন্ত হিসাবে আছে।’
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সচিব এসব কথা বলেন। ‘বৈশ্বিক জ্বালানি-সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এসময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান প্রমুখ।
শিল্পসচিব বলেন, ‘প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে মাত্র এখন একটি সচল আছে। এমনকি এই সচল সময়ে ঘুরেফিরে একটিকে তারা গ্যাস দিচ্ছে। (প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম) ১৬ টাকা আমরা সরকারকে দিতাম। সেটা বাইরে থেকে এনার্জি এনে গ্যাসের সঙ্গে মিশিয়ে আমাদের দেওয়ার কথা রয়েছে। এখন সারা বছর যাতে গ্যাস দিতে পারে সার কারখানায়, সে জন্য ৩২ টাকা ৩০ পয়সা (প্রতি ঘনমিটার) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা আমরা বাণিজ্যিকভাবে আসলে চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা সারা বছরের মধ্যে মাত্র তিন-চার মাস গ্যাস পাচ্ছি।’
ওবায়দুর রহমান জানান, সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ দেওয়ার জন্য সার কারখানাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস আমদানির ঝুঁকি আছে। সবকিছু মিলায়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় আসন্ন মৌসুমে যে সার লাগবে তা সরকারের কাছে নেই।
শিল্পসচিব আরও বলেন, ‘আমাদের চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে যদিও গ্যাস লাগে না, কিন্তু বিদ্যুৎ লাগে। আমরা কিছুটা আখ থেকে পাই, কিন্তু সেটাও তিন মাস। আর বাকিটা পল্লী বিদ্যুৎ বা যেখান থেকে হোক নিয়ে থাকি। আজকে নবায়নযোগ্য শক্তির কথা বলা হচ্ছে। আমরা বিএসটিআইয়ের যে ল্যাব, সেখানে সৌরশক্তি পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। আপনারা বলেছেন যে দীর্ঘসূত্রতা আছে। এটা আমরা স্বীকার করি। আমরা চেষ্টা করছি যেন এই দীর্ঘসূত্রতাকে অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায়। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
ইএইচটি/একিউএফ