জ্বালানি-সংকট
তেল নিতে পাম্পগুলোতে লম্বা সারি, অপেক্ষা ঘণ্টার পর ঘণ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর পাম্পগুলো বেশ কয়েকদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছে না। এমন অবস্থায় ডিপো থেকে যতটুকু জ্বালানি আসছে তা নিতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য গাড়ির চালকরা আগেভাগেই ভিড় করছেন পাম্পে। ছুটি বা কর্মদিবস- কোনো দিনই সেখানে ফাঁকা থাকছে না।
সোমবারও (৩০ মার্চ) রাজধানীর তেল পাম্পগুলোর সামনে চালকদের বিশাল সারিতে অপেক্ষা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন, পরিবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশন ও মেঘনা ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাখালীমুখী এবং মেঘনা ফিলিং স্টেশন এলাকায় শাহবাগ মোড়মুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে আড়াইটার দিকে দেখা যায়, তেল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ। এসময় ডিপো থেকে আসা তেল খালাসের কার্যক্রম চলছিল। ডিপোর গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের সামনে শতাধিক মোটরসাইকেল জড়ো হয়ে যায়।
পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী সোহেল বলেন, ‘আমাদের তেল ছিল না। কেবল গাড়ি আসছে, তেল নামাচ্ছে। নামানো হলেই দেব।’ জনপ্রতি কত টাকার তেল দেবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব মোটরসাইকেল ৫০০ টাকার করে তেল পাবে।

এছাড়া, আসাদগেট এলাকার তালুকদার পাম্প থেকে তেল নিতে গণভবন হয়ে জিয়া উদ্যানমুখী সড়কে এবং সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে টাউনহলমুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে।
দুপুরে তালুকদার পাম্পের সামনে অপেক্ষারত মোটরবাইকচালক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে তেল দেয়নি। একটু আগে শুরু করছে। লাইনে দাঁড়িয়ে আছি আড়াই-তিন ঘণ্টা।’
পাম্পে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী জানান, সকাল থেকে তেল ছিল না তাই দেওয়া বন্ধ ছিল। এখন তেল দেওয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, পাম্পের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে চাহিদার তুলনায় কম তেল পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যানবাহনের চালকরা।
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক শিমুল বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এত সময় দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ৫০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে। যে সময় দিচ্ছি সে অনুযায়ী ট্যাংকি ফুল করে দিলে কষ্টটা মানা যেত। যে তেল দিয়েছে তাতে সর্বোচ্চ তিনদিন পর আবার পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে দু-তিন ঘণ্টা শ্রম দিতে হবে।’
কেআর/একিউএফ