সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ০১ আগস্ট ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের গুজব কারো নজরে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বস্তরে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কয়েক দিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অসৎ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে গুজব সৃষ্টি করছে। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের গুজব সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই দেশবাসীকে এ ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে গুজব রটানোদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি যেসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেসব মাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার আইন এবং নীতিমালা করতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, গুজব নিরসনেও এসব মাধ্যমকে সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার।

গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গুজব নিরসন-সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যারা গুজব ছড়াচ্ছে, বিশেষ করে যারা প্রাণঘাতী গুজব ছড়াই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির মাত্রাটা আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। দেশবাসীর সহযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়ের অনেক গুজব নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গুজব ছড়ালে তাদেরকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত হচ্ছে, বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের গুজবের পোস্ট দেয়া হয়। তারা নিজেদের তথ্য গোপন করে ফেক আইডি ব্যবহার করে এসব কাজ করে। সেজন্য তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্ত করা সম্ভব হয় না ‘

ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি এ ব্যাপরে ইউকে (যুক্তরাজ্য) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারলে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যারা সার্ভিস প্রোভাইডার তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা আইন এবং নীতিমালা তৈরি করেছে এবং করছে। আমাদেরকেও এ বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। যেমন, ফেসবুকের মাধ্যমে কেউ যদি গুজব ছড়াই এক্ষেত্রে ফেসবুকেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসব গুজব নিরসনে আমরা ফেসুবককেও সম্পৃক্ত করতে চাই। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও এক্ষেত্রে আমরা সম্পৃক্ত করতে চাই। ইউরোপ, আমেরিকা এগুলো নিরসনে যেভাবে কাজ করছে আমরাও একইভাবে কাজ করতে চাই।’

এমইউএইচ/এসআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন