চা-বাগান থেকে ডাকসু নির্বাচনে

রিপন দে
রিপন দে রিপন দে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৯

দারিদ্র্যসীমার নিচে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। দু’বেলা খাবার জোগাড় করার জন্য রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে রুগ্ণ শরীর নিয়ে চা-বাগানে কাজ করতে হয় তাদের।

থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারে না ৫০ শতাংশ চা-শ্রমিকের সন্তান, সেখানে উচ্চশিক্ষা শুধুই বিলাসিতা বললেই চলে। দেশের ১৬২টি চা-বাগানে প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিকের বসবাস, যাদের মধ্যে শিক্ষার হার খুবই সামান্য।

এরপরও চা-শ্রমিকদের সন্তানদের মধ্যে অদম্য কিছু শিক্ষার্থীর দেখা মেলে মাঝে মধ্যে। যারা ১০ লাখ চা শ্রমিকের সন্তানদের স্বপ্ন দেখান, বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামের কথা জানান এবং লড়াইয়ের বীজ বুনে দেন। এদের একজন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা-বাগানের বাসিন্দা মৃত সত্য নারায়ণ রবিদাসের ছেলে সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন।

চা-বাগানের অজপাড়া গাঁয়ে বেড়ে ওঠা সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখ। মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রবিদাস অঞ্জন এবার ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘সমাজসেবা সম্পাদক’ পদে লড়ছেন।

জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কয়েক বছর ধরেই সক্রিয়। তিনি ‘বিশ্ববিদ্যালয় চা-ছাত্র সংসদ’র আইনবিষয়ক সম্পাদক, ‘একটি বিদ্যার্থীর দৃষ্টি সংঘের’ সভাপতি, ‘বাংলাদেশ রবিদাস ছাত্র পরিষদের’ দফতর সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্য।

আগামীকাল (সোমবার) অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এই নির্বাচনে ‘সমাজসেবা সম্পাদক’ পদে জয়ী হয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে চান সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন।

santos

জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন বলেন, চা-বাগান থেকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে আসতে আমার যে প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে, তা শুধু আমি আর আমার মতো যারা আছেন তারাই বুঝবেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানরা বুঝে একটি ভালো পরিবেশে আসতে কতটুকু কষ্ট ও সংগ্রাম করা লাগে।

আমি খুব অনুভব করি এই কষ্টগুলো। আমি ডাকসু নির্বাচনে ‘সমাজসেবা সম্পাদক’ নির্বাচিত হলে তাদের সেবা করতে চাই, যারা আমার মতো অবহেলিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে ওঠে এসেছেন।

সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন আরও বলেন, ছাত্র সমাজের সামাজিক উন্নয়নের জন্য তথা সমাজসেবার লক্ষ্যে ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সমাজসেবা সম্পাদক পদে লড়ছি আমি। আমি অবহেলিত শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করব।

ডাকসু নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সন্তোষ বলেন, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সব ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন আমরা ভুলে যাইনি। আমার প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এতে যে ফলই আসুক তা হাসিমুখে মেনে নেব আমরা।

সন্তোষ রবিদাস অঞ্জন বলেন, চা-শ্রমিকের সন্তান হয়েও এত দূর আসতে পেরে আমি গর্বিত। চা-বাগানের দারিদ্র্যতা আমাকে থামাতে পারেনি। আমি চা-বাগানে থেমে থাকিনি। আমি এই ভালো পরিবেশের চূড়ায় উঠতে পেরেছি। আরও সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

এএম/পিআর

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :