আপনার মাঝে মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০৬ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি। আপনার মাঝে আমি আমার মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাই।’ তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে পাশে বসান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করেন নুর।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন নুর।

নুরুল হক বলেন, ‌‌‌‘আড়াই বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। মায়ের স্মৃতি যতটুকু মনে করতে পারি সেটা খুঁজে পেয়েছিলাম প্রাইমারির এক শিক্ষিকার মাঝে। আর আজকে প্রধানমন্ত্রীকে সামনা-সামনি দেখে আমার মনে হয়েছে যে, সেই মাতৃত্বের ছায়াটা নেত্রীর মধ্যে খুঁজে পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ছাত্রলীগের কর্মীই ছিলাম না, ছোটখাটো একটা নেতাও ছিলাম, পোস্টেড ছিলাম। বিভিন্ন গ্রোগ্রামে গিয়েছি। দেখেছি নেত্রীকে। টিভিতে দেখেছি। আজকে কাছে থেকে সরাসরি দেখলাম।’

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘এর আগে আমি স্কুল কমিটির ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক ছিলাম। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় উপ-মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলাম। অথচ কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে বিনয়ের সঙ্গে বলবো যে, আমার ছাত্রলীগের ভাই-বন্ধুরাও কেন যেন আমাকে জামাত-শিবির বানানোর জন্য অপপ্রচার তুলেছিল।’

jagonews

বলেন, ‘আমি বলতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেয়নি। সব মঙ্গল কাজের সঙ্গে ঢাবির শিক্ষার্থীরা থাকবে। ডাকসুর নবনির্বাচিত আমরা যারা রয়েছি সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

নুর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি সারা বিশ্বের নেতা। জাতির পিতা বলেছিলেন- ‘‘যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে এবং সংখ্যায় যদি একজনও হয় আমরা সেটা মেনে নেব।’’ সুতরাং যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন তারা এ বিষয়টা ধারণ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, যার নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত এবং তার লিডারশিপের কারণে বিশ্বের বড় বড় নেতাদের মাঝে তারা স্থান করে নিতে পেরেছেন।

ডাকসু ভিপির বক্তব্য দেয়ার পর আমন্ত্রিত নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবনে উপস্থিত একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ হয়, এটা সবসময় বলেছি। ছাত্রছাত্রীরা যা চাইবে, তাই হবে। ভোট কে কত পেল, সেটা বড় নয়। যারা জয়লাভ করেছে সবার কিন্তু এই বিবেচনা রাখতে হবে কে ভোট দিলো কে দিলো না সেটা বিষয় নয়।’

নির্বাচনে ভিপি পদে হেরে যাওয়া শোভনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটে হারার পর শোভন আমার কাছে এসেছে। আমি শোভনকে বলেছি, ভোটে হেরেছ, এবার যাও তাকে (নুর) অভিনন্দন জানাও। সে তাই করেছে। আমি এজন্য শোভনকে ধন্যবাদ জানাই। সে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তার দাদা এমপি ছিলেন, বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান। সে তার রাজনৈতিক উদারতা দেখিয়েছে।’

বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছি। সেটা ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হলে ভালো। আমরা স্কুলজীবন থেকেই শুরু করেছি ছোটবেলা থেকেই গণতন্ত্রের চর্চা থাকুক।

এর আগে, বক্তব্য দেন ডাকসু সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও বক্তব্য দেন। শনিবার বেলা ২টা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আসতে শুরু করেন ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিতরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি বাসে তারা গণভবনে পৌঁছান।

সবার শেষে বেলা ৩টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে গণভবনে পৌঁছান ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। ওই গাড়িতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনও ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

এইউএ/বিএ/এমআরএম/আরআইপি

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।