প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে এসেছেন পদ্মা সেতুতে জমি দেওয়া শরিতুন

এন কে বি নয়ন এন কে বি নয়ন পদ্মা সেতু এলাকা থেকে
প্রকাশিত: ০২:০৪ পিএম, ২৫ জুন ২০২২

মেয়ে সুমাইয়াকে কোলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে জনসভায় এসেছেন শরিতুন বেগম (৪০)। তিনি পদ্মা সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা এলাকার বাসিন্দা।

শরিতুন বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সামনে অনুষ্ঠান আর আমরা আসবো না, এটা কোনো কথা? আমরা পদ্মা সেতুতে জমি দিয়েছি। আমাদের জমিতে পদ্মা সেতু হইছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেমন দেখতে আসছি। শুধু মানুষ আর মানুষ। জানি না প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পারবো কি না। তিনি একজন সাহসী মানুষ। আল্লাহ তাকে হায়াত দারাজ করুক, আমাদের এলাকায় এখন নদী ভাঙে না। পুরাই টাউন-শহর। কেউ আর এখন পানিতে ডুবে মরবো না।’

শনিবার (২৫ জুন) সকালে পদ্মার সেতুর উদ্বোধনী জনসভা লাগায়ো শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে শরিতুন নামের এই গৃহিণী জাগো নিউজকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদা ও স্বামীর ভিটা দুটোই গেছে পদ্মা সেতুতে। পাশে জমি কিনে সেখানে তিন সন্তান ও স্বামী নিয়ে বসবাস করি। জমি হারানোর সামান্য শোক থাকলেও আনন্দও কাজ করছে আমাদের মনে।’

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে সেতু দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জাজিরার অভিমুখে রওনা হয়। এর আগে বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে নিজ হাতে নির্ধারিত টোল দেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার (২৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে যানচলাচল শুরু হবে।

২০০১ সালের ৪ জুলাই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার স্বপ্নের কাঠামো নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।