রিফাতের খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ৩০ জুন ২০১৯

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফের অভিযুক্ত হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

একইসঙ্গে, খুনিরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে দেশের সব বন্দরে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন। রিটের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন তিনি নিজেই।

রিটের বিবাদীরা হলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ,আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের ডিজি, বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি), বরিশাল বিভাগীয় পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই রিটের শুনানির জন্য উপস্থাপন হবে বলে জানান এই আইনজীবী।

হাইকোর্ট থেকে রেড অ্যালার্ট জারির নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন আবার রিট করা হয়েছে জানতে চাইলে ইউনুছ আলী বলেন, এর আগে হাইকোর্ট থেকে মৌখিক আদেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু মৌখিক আদেশ দেয়া হয়েছে আমরা এখন একটি লিখিত আদেশ চাই। তাই এ রিট করেছি। রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটার তিন-চার দিন অতিবাহিত হচ্ছে তারপরও খুনের পরিকল্পনাকারী এবং মূল আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি।

রেড অ্যালার্ট জারির জন্য স্থল, বিমান ও নৌবন্দরে যাতে পাহারা বসানো হয় তার জন্য লিখিত আদেশ চেয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ২৭ জুন রিফাত শরীফের হত্যাকারীরা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে দেশের সব থানায় অ্যালার্ট জারি করতে বলেছিলেন হাইকোর্ট। পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন আদালত।

ওইদিন সকালে বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা দেশের বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের নজরে আনেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশারকে এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ জানানোর নির্দেশ দেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ঘটনার বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন দিয়ে তাদের পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে জানেন। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আদালতকে জানান, আপনাদের (আদালতের) আদেশের পর বরগুনার ডিসি, এসপি ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আজ (বৃহস্পতিবার) ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে মামলায় চন্দন নামের ৪ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখনও মাঠে আছেন। আসামিদের গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে, তাদের চিরুনি অভিযান চলছে।

পরে আদালত বলেন, ‘একটি কলেজের সামনে রাস্তার ওপরে দিনে দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। গত (২৬ জুন) বেলা ১১টার ঘটনা অথচ আজ মামলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ জোড়ালো মনে হচ্ছে না।’ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, সবাইকে গ্রেফতার করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

এ সময় আদালত বলেন, ‘মূল অভিযুক্তকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে? কলেজের সামনে দিনে দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কার্যক্রম তৎপর মনে হচ্ছে না।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনটি টিম কাজ করছে। র‍্যাবও সঙ্গে যুক্ত আছে। আসামিদের বাড়ি ও তাদের স্বজনদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

আদালত বলেন, ‘বরগুনার পাশে পিরোজপুর জেলা আছে। এটি একটি উপকূলীয় এলাকা। এর আগে একটি মামলায় আসামি ধরার সময় উধাও হয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রে (রিফাত হত্যা) এমনটি হলে তা হবে দুঃখজনক। আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, এ ব্যাপারে পুলিশপ্রধানকে জানিয়ে দিন।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আদালত বলেন, ‘আপনি আমাদের বিষয়টির অগ্রগতি জানবেন। কোনো অনিয়ম দেখা দিলে আমরা তা নজরে রাখব।’ এ সময় আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস এ বিষয়ে আদালতকে আদেশ দেয়ার আরজি জানান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ‘নিহত রিফাতের স্ত্রীসহ পরিবারকে সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ আদালত বলেন, ‘এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যতটা তৎপর হওয়া উচিৎ ছিল, তা মনে হয় হয়নি। বরগুনার পাশে সুন্দরবন ও তার পাশে কয়েকটি বর্ডার রয়েছে। আসামিরা যাতে বর্ডার ক্রস করতে না পারে সেজন্য পুলিশের আইজিপিকে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলো। আমরা আপাতত কোনো আদেশ বা রুল জারি করছি না। তবে, এ মামলায় কোনো অনিয়ম হয় কি না তা আমরা নজরে রাখব।’

এ পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আদালতকে জানান, ঘটনার পর ভিকটিমের স্ত্রী ও স্বজনদের যেন কোনো রকম হয়রানি বা হুমকি না দেয়া হয় সেজন্য তাদের নিরাপত্তা দিতে বলেছি।

আদালত বলেন, ঘটনায় জড়িদের বিরুদ্ধে এর আগেরও মামলা ছিল, এদের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সচেতন থাকা উচিৎ ছিল। আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) আবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য রাখছি। ওইদিন (৪ জুলাই) মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আমরা শুনানি করব।

২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

এফএইচ/জেএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :