রিফাত হত্যা : সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল ঘটনাস্থল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ২৭ জুন ২০১৯

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে দুই যুবক। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একবার এ খুনির কাছে তো, আরেকবার ও খুনির কাছে। কখনও পেছন থেকে জাপটে ধরছেন, আবার কখনও একেবারে খুনির হাতে থাকা রাম-দায়ের সামনে গিয়ে পথ আগলে ধরছেন।

কিন্তু স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলে চলে হামলা। এরই মধ্যে রক্তাক্ত হন স্বামী রিফাত। রক্তে ভিজে যায় তার শার্ট-প্যান্ট। কিন্তু এ ঘটনার সময় শত শত লোক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ও আশেপাশে উপস্থিত ছিল। এমন অবস্থা দেখেও রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউই। সবাই তখন ভিডিও করা নিয়ে ছিল ব্যস্ত।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিফাত শরীফ (২৫) নিহত হয়েছেন।

জানা যায়, স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের উত্তর বড় লবণগোলা গ্রামের শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে। বুধবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে আসামাত্রই প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন- স্ত্রীকে ‘উত্ত্যক্তের’ প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

হত্যাকাণ্ডের এ দৃশ্য বরগুনা সরকারি কলেজের কলা ভবন থেকে শিক্ষার্থীরা মোবাইলে ভিডিও করলেও এগিয়ে আসেননি। ওই সময় ঘটনাস্থলের আশেপাশে আরও অনেক শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ থাকলেও রিফাত ও তার স্ত্রীকে রক্ষা করেনি কেউই। পরে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে ভাইরাল হয়ে যায়।

এছাড়া রিফাতের ওপর হামলার ঘটনার স্থানটি বরগুনা জেলা পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল। কিন্তু ওই সময় পুলিশও তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় এ ঘটনা ঘটলেও ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ।

তবে পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে রিফাতের খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। ঘটনাস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশাকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান স্বামী রিফাত শরীফ। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাতের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। স্ত্রী আয়েশা তাদের থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

আরও পড়ুন- সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

রিফাতকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায় তারা। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাতের মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, কালো শার্ট, জিন্সের প্যান্ট ও চোখে সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় রিফাত শরীফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা যুবকের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাত ফরাজী বরগুনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে। তার সঙ্গে আরও যাকে কোপাতে দেখা যায় সে হলো পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদেরকে শনাক্ত করেছি আমরা। তবে সময়মতো ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। অভিযান চলছে, সব অপরাধীকে গ্রেফতার করা হবে।

মো. সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এএম/পিআর

টাইমলাইন