রিফাত হত্যায় জড়িতরা সরকারি দলের হলেও রেহাই নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৯

বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িতরা সরকারি দলের হলেও রেহাই নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বরগুনায় রিফাত হত্যায় জড়িত প্রধান আসামিকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। হত্যায় জড়িতদের সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছে, দেশের যিনি সরকারপ্রধান তিনি এক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতায় রয়েছেন। আজ অবধি সেখানে ৯ জনের মতো গ্রেফতার হয়েছেন। আমার বিশ্বাস বাকিরাও অচিরেই গ্রেফতার হয়ে যাবে। গ্রেফতারের জন্য সিরিয়াসলি অভিযান চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত তারা যদি সরকারি দলেরও কেউ হন, কেউ রেহাই পাবেন না। এটা পুলিশকে জানানো হয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সরকারের মনোভাব জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যে খুন করে যে খুনকে উৎসাহিত করে মদদ দেয় সেও তো অপরাধী। সোনাগাজীতে নুসরাত হত্যায় কাউকে রেহাই দেয়া হয়নি।’

জঙ্গিবাদ নিয়ে আতঙ্কিত নই, তবে সতর্কতা আছে
হলি আর্টিজানের পর সরকার জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বস্তিতে আছে কি না- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার মনে হয় শ্রীলংকার ঘটনার পর কেউই মনে করছে না তারা স্বস্তিতে আছে। টেররিজম এখন নরওয়ের মতো দেশেও হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে মসজিদে হামলা হচ্ছে, আমেরিকার মতো দেশে, লন্ডন-ইউরোপ-স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কান্ট্রি; কেউই তো এখন মুক্ত নয়। তামিল বিদ্রোহ দমনের পর শ্রীলংকাকে মনে করা হয়েছিল শান্তিপূর্ণ দেশ, সেই শ্রীলংকাই তো শান্ত থাকল না। কাজেই এই ব্যাপারে আমরা আতঙ্কিত নই, তবে সতর্কতা আছে।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে কিছুটা অস্বস্তি আছে
আপনার সরকারের সময়েই গ্যাসের দাম ৩৯০ টাকা থেকে প্রায় এক হাজার টাকা হলো। এটা জনগণের জন্য বোঝা কি না- এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেখুন কিছুটা অস্বস্তির বিষয় তো অবশ্যই আছে। তবে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের যে বক্তব্য সেটা হচ্ছে আগে এলএনজি আমদানি প্রতি ইউনিট গ্যাসের মূল্য ৭ টাকা ৮০ পয়সা ছিল, বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ১৭ পয়সা। এই হিসাবে প্রতি বছর লোকসান প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি ইউনিট এলএনজি আমদানি মূল্য ৩৯ টাকা, ব্র্যান্ডিংমূল্য ১২ টাকা ৫০ পয়সা। এই হিসাবে মাসে এক হাজার ৮৬০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। এখানে মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল, সেটাই করা হয়েছে। আমি যতটুকু জেনেছি এই মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বিরোধী দলের ভাষা। বিরোধী দল গণবিরোধী বলবে এটাই স্বাভাবিক, বাস্তবতা ভিন্ন।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে কি আপনি জনবান্ধব বলবেন- জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘জনবান্ধবের জন্য তো দাম বৃদ্ধি হয়নি। এটা প্রাইস সমন্বয়। দেশ তো চালাতে হবে। গ্যাসের সংকট আছে, এটা বাস্তবতা। অস্বীকার করার তো উপায় নেই।’

নবম ওয়েজ বোর্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই দিয়ে দেব। এটা ঝুলিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

জুলাই মাসের মধ্যে এটা কী সম্ভব- এ বিষয়ে নবম ওয়েজবোর্ডের সুপারিশ পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করতে পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক কাদের বলেন, ‘সম্ভব।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট তো গতকাল পাস হলো। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ ২৯ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা, সেতু বিভাগের বরাদ্দ ৮ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। সর্বমোট ৩৭ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এ বছর সড়ক পরিবহনে বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। আমাদের এডিপি বাস্তবায়ন হার এবার শতভাগ, গতবারও ছিল শতভাগ।’

গতকাল সড়ক বিভাগ একটি জরিপ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে তারা বলেছেন ১৭ হাজার কিলোমিটার রাস্তা জরিপ করে এর এক চতুর্থাংশ খারাপ অবস্থায় পাওয়া গেছে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো জেলা সড়ক। জেলা সড়কের বরাদ্দটা দীর্ঘদিন ধরে কম ছিল। গতবার ও এবার কিছুটা বেড়েছে। সামনের দিকে আরও উন্নতি হবে। জেলা সড়কগুলোকে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া দরকার সেই পরিমাণ বরাদ্দ আমরা দিতে পারি না। পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এতে সার্বিক অবস্থার উন্নতি হবে এমনটা আশা করা যায় না। জেলা সড়কে বাড়তি বরাদ্দ দেয়ার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি।

আরএমএম/এনএফ/এমকেএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন