রিমাল গেছে, পানি আটকে আছে ঢাকার পথে পথে

জাগো নিউজ টিম জাগো নিউজ টিম
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ২৮ মে ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলে আঘাত হানে রোববার দিনগত রাতে। সোমবার সকালে সেটি উপকূল অতিক্রম করে উঠে আসে স্থলভাগে। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ ১১১ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানা রিমাল ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়লেও সারাদিন ধরে চলতে থাকে বর্ষণ। দিন পেরিয়ে সে বর্ষণ অব্যাহত থাকে রাতেও। এর ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে সবচেয়ে ঘনবসতির ঢাকা শহরে চরম আকার ধারণ করেছে জলাবদ্ধতা।

সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, তাদের ৯১টি দল কাজ করছে জলাবদ্ধতা নিরসনে। অন্যদিকে সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, তারা হটলাইনে কল পেয়ে ৯৪ স্থানে পানি অপসারণ করেছে। তবে এসবে কাজ হয়েছে সামান্য। মঙ্গলবার সকালে নিজ নিজ কাজে পথে বেরিয়ে জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

রিমাল গেছে, পানি আটকে আছে ঢাকার পথে পথে

সড়কের পানি পৌঁছে গেছে ফুটপাত পর্যন্ত, আজিমপুর থেকে মঙ্গলবার সকালে তোলা ছবি

মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়ক পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি জানিয়েছে জাগো নিউজ টিম।

জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. মাসুদ রানা যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে জানিয়েছেন, টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট। বিশেষ করে প্রায় পুরো মাতুয়াইল এলাকা এখন পানির নিচে। মঙ্গলবার সকাল থেকে মাতুয়াইল এবং যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে সড়কের একটি অংশ পানিতে তলিয়ে আছে। পার্শ্ববর্তী জনতাবাগ, মদিনাবাগ, রায়েরবাগ এলাকার রাস্তাঘাটও জলাবদ্ধ দেখা গেছে।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অনেকেই পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সড়কের পানিতে অনেককে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।

রামপুরা থেকে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক নাজমুল হুসাইন জানিয়েছেন, পূর্ব রামপুরা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেগ পেতে হয় অফিসগামী মানুষদের। রাস্তার পাশে বাজারে অনেক দোকানে পানি দেখা গেছে। এতে কিছু দোকান বন্ধও রয়েছে। পানি জমা রাস্তায় রিকশা পাওয়া যাচ্ছে কম, বাড়তি চাওয়া হচ্ছে ভাড়া।

রিমাল গেছে, পানি আটকে আছে ঢাকার পথে পথে

মধ্যরাতের পর থেকে পানি কমেছে, এরপরও চলার উপযোগী হয়নি মৌচাকের সড়ক

জাগো নিউজের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আসিফ আজিজ রাজধানীর প্রগতি সরণি থেকে জানিয়েছেন, ওই এলাকার নদ্দা ও জোয়ার সাহারা বাজার দিয়ে ঢোকা দুই সড়কে সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমা নৈমিত্তিক ঘটনা। প্রগতি সরণির প্রধান সড়কেও পানি জমে। রাত ১২টার দিকে ওই সড়কে হাঁটুপানি দেখা গেছে। সকালেও সে পানি পুরোপুরি সরেনি। আশপাশের অনেক ভবনের নিচে পানি জমে গেছে। নিচু টিনশেড বাড়িগুলোর একাংশ এখনো পানির নিচে। এসব বাড়ির মানুষ খাটের ওপর বসে দিন কাটাচ্ছে। ঘরের পানি কিছুক্ষণ পরপর সেচে কমালেও আবার ঢুকছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

এছাড়া অফিস ও স্কুলগামী মানুষ বিপাকে পড়েছে বেশি। এ দুই সড়কে অন্তত ১০টি স্কুল রয়েছে। রিকশা না পেয়ে অনেককে ময়লা পানি মাড়িয়ে স্কুল কিংবা কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। মাঝে একটু দ্রুত পানি সরলেও এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

এছাড়া মালিবাগের বিভিন্ন সড়কেও পানি জমে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মিরপুর থেকে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফুল হক মিঠু জানিয়েছেন, মিরপুর সাড়ে ১১ ও ১২ এলাকায় জলাবদ্ধতা চোখে পড়েনি। তবে অনেক রাস্তায় গাছের ডাল পড়ে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাসার সামনে পড়ে থাকা ডালপালা সরাতে দেখা গেছে।

আগারগাঁও এলাকাতেও দেখা গেছে একই চিত্র।

jagonews24

পূর্ব রামপুরায় দুই নারীর ভোগান্তিকর চলাচল

মগবাজার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, তেমন জলাবদ্ধতা নেই মগবাজার, ইস্কাটন ও বেইলি রোড এলাকায়। তবে মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের সামনের সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা গেছে।

নিউমার্কেট এলাকা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, মিরপুর সড়কে নুরজাহান মার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের সামনের মূল সড়কে পানি জমে আছে৷ এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা। তবে সকাল থেকে আর বৃষ্টি না হওয়ায় মূল সড়কের পানি কমতে শুরু করেছে।

এছাড়া জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সামনে পানি জমে আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দা ও প্রশিক্ষণ নিতে আশা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। হাঁটুপানি থাকায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। বাধ্য হয়ে রিকশায় চড়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে তাদের।

এমএইচআর/এমএমএআর/জিকেএস

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।