ঢাকার পথে পথে এখন শুধুই নীরবতা
রাত পোহালেই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ ঘিরে চলছে টানা ছুটি। এরই মধ্যে রাজধানী ছেড়েছে বহু মানুষ। ফলে ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। কোথাও নেই চিরচেনা যানজট অথবা মানুষের কর্মকোলাহল। নেই কানে জ্বালা ধরা গাড়ির হর্নের তীব্র আওয়াজ। সব মিলিয়ে চেনা রূপ হারিয়ে ফাঁকা ঢাকার পথে পথে এখন শুধুই নীরবতা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, কারওয়ানবাজার, আগারগাঁও, শ্যামলী, কল্যাণপুর দারুসসালাম ও টেকনিক্যালসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ফাঁকা ঢাকার এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় সব সড়ক ফাঁকা। কোথাও কোনো যানজট নেই। যানবাহনের সংখ্যাও অনেক কম। ঢাকার ভেতরে চলাচল করা কিছু গণপরিবহনের দেখা মিলছে মাঝেমধ্যে। সেগুলোতে যাত্রী উপস্থিতিও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম। কোনো কোনো বাস স্টপেজে হাতেগোনা যাত্রীর দেখা মিলছে। তবে যানবাহন কম থাকায় গন্তব্যে যেতে সড়কে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্বাভাবিক সময়ে ঢাকার যে পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়, সেখানে এখন খুব অল্প সময়েই পৌঁছানো যাচ্ছে। কোথাও যানজটে আটকে থাকার দৃশ্য নেই। নেই ট্রাফিক সিগন্যাল। প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা। দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি কিংবা রিকশা ছাড়া গণপরিবহনও চলছে টুকটাক।
মিরপুর থেকে গাবতলী এসেছেন জয় নামের এক যাত্রী। কথা হলে তিনি বলেন, অনেকটা সময় কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়ি পেয়েছি। রাস্তা ফাঁকা, কিন্তু গাড়ি নেই।
কল্যাণপুর বাস স্টপেজে কথা হয় আরেক যাত্রী আমিনুলের সঙ্গে। তিনি এসেছেন বাংলামোটর থেকে। জানতে চাইলে বলেন, গাড়িতে যাত্রী নেই। গাড়িও খুব কম। আসার সময় প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি পেয়েছি। যাত্রী কম থাকায় গাড়িগুলো বিভিন্ন স্টপেজে গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে। যে কারণে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছুতে সময় লাগছে।

এদিকে, শুক্রবার সকালে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি টার্মিনালই প্রায় ফাঁকা। কোথাও যাত্রীর চাপ নেই। বাসগুলো টার্মিনালে সারি সারিভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে দূরপাল্লার গাড়ি ছেড়েও যাচ্ছে কম।
কেআর/এমকেআর