বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত, মোনাজাতে বিশ্ববাসীর শান্তি কামনা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬
ইদের দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে/ছবি: বিপ্লব দিক্ষিৎ

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত। বয়ান, দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ, খুতবা এবং মোনাজাতসহ প্রতিটি জামাত শেষ হতে ৩০ মিনিটের মতো সময় লেগেছে। নামাজ শেষে প্রতিটি মোনাজাতে বিশ্ববাসীর শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। 

ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রতিটি জামাতের মুসল্লিদের ভিড় ছিল। প্রথম দুটি জামাতে মুসল্লিদের ঢল নামে। জাতীয় মসজিদের জামাতে অংশ নিতে এদিন ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। সকাল ৭টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

jagonews24

ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় বায়তুল মোকাররমে নেওয়া হয়েছিল নানা পদক্ষেপ। মসজিদের প্রবেশমুখে বসানো হয় আর্চওয়ে। দক্ষিণ পাশে দুটি আর্চওয়ে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। প্রবেশ গেটগুলোতে দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ইমাম অবস্থান নেওয়া মসজিদের মূল অংশের প্রবেশমুখেও ছিল আর্চওয়ে।

সকাল ৭টায় শুরু হওয়া প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান। সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম জামাত।

প্রথম জামাত শেষ হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক মুসল্লি দ্বিতীয় জামাতের জন্য অপেক্ষা করেন। প্রথম জামাত শেষ হতেই তারা মসজিদে প্রবেশ করেন।

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় জামাতের বয়ান। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।

jagonews24

এরপর সকাল ৯টায় তৃতীয়, সকাল ১০টায় চতুর্থ ও সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পঞ্চম ও শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতি করেন।

প্রতিটি জামাত শেষ হয় মোনাজাতের মাধ্যমে। প্রায় প্রতিটি মোনাজাতেই আল্লাহর কাছে গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া ছাড়াও দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ কামনা করা হয়।

মোনাজাতে রমজানের রোজা ও অন্যান্য এবাদত কবুলের জন্য আল্লাহর কাছে আর্তি জানানো হয়। মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য জান্নাত কামনা করা হয়। মোনাজাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের অনেককেই চোখের জলে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিপীড়িত মুসলমানদের হেফাজতের জন্য দোয়া করেন। 

জামাত শেষে মুসল্লিরা একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। মসজিদের ভেতরে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের ছবি তুলতে দেখা গেছে। মুসল্লিদেরও অনেকে মসজিদের ভেতরে সেলফি তোলেন।

jagonews24

বাড্ডা থেকে তছির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি মাদরাসাযপড়ুয়া দুই সন্তান নিয়ে আসেন বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ পড়তে। কথা হলে তিনি বলেন, ঈদের সময় ঢাকায় থাকলে বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়ার চেষ্টা করি। বাচ্চারা আসে, ওরা অনেক মানুষের সঙ্গে নামাজ পড়ে আনন্দ পায়। আমারও ভালো লাগে। 

যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে আসা মো. ইলিয়াস বলেন, রোজার ঈদের নামাজটা আমি সাধারণত বায়তুল মোকাররমের প্রথম জামাতে পড়ি। এখানে এসে নামাজ পড়তে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে।

আরএমএম/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।