চট্টগ্রামে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিততের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে/ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিততের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহ ও মসজিদে সমবেত হন। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

নগরের অন্যতম প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম জামাতে ইমামতি করেন খতিব হজরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই জামাতে প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। জামাতে অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার সাবেক প্রিন্সিপ্যাল ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান। নগরের ৯০টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

jagonews24

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে লালদীঘি শাহী জামে মসজিদসহ নগরের বিভিন্ন মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি নগরের সর্বত্রই মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জমিয়তুল ফালাহ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। নগরজুড়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়।

নামাজ শেষে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সমাজের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখার পাশাপাশি দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ঈদ এসেছে। নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে জনপ্রতিনিধিদের।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা বলেন, ঈদ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের বার্তা দেয়। সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই ঈদের তাৎপর্য পূর্ণতা পায়।

এমআরএএইচ/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।