৫ বছর আগে মাকে হারিয়েছেন দবির, এখন ঈদের দিনেও খুঁজে ফেরেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬
মায়ের ছবি গলায় ঝুলিয়ে এখনো খুঁজে ফেরেন পোশাককর্মী মোহাম্মদ দবির হোসেন/ছবি জাগো নিউজ

পাঁচ বছর আগে মাকে হারিয়েছেন পোশাককর্মী মোহাম্মদ দবির হোসেন। তার মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। মাকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় দবির। আগে ঈদে গ্রামের বাড়ি গেলেও এখন যান না। ঈদের ছুটিতে মাকে খুঁজে ফেরেন।

এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরে ৯ দিন ছুটি নিয়েছেন। এই ৯ দিনের ছুটিতে তার পরিকল্পনা ঢাকার প্রতিটা অলিগলিতে মাকে খুঁজবেন। এ জন্য মায়ের একটি ছবি গলায় ঝুলিয়ে শহরের অলিগলিতে খুঁজছেন দবির।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দেখা যায় দবিরকে। ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর মাকে হারিয়েছেন দবির। দবির নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর, মালঞ্চনগরে অবস্থিত সেনসিবল ফ্যাশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

দবিররা মোট ১০ ভাইবোন। মাকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন দবির। মা যেন একটু ভালো থাকতে পারেন, একটু ভালো খেতে পারেন; সে জন্য ২০২১ সালে টাঙ্গাইল থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন দবির।

একদিন দবির কারখানায় গেলে মা রোকেয়া একা একা দোকানে যান। এরপর আর বাসায় ফিরতে পারেননি। মায়ের কাছে কোনো ফোন নম্বর বা ঠিকানা ছিল না। এরপর থেকে মাকে খুঁজে পাননি দবির। মায়ের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটা গলি ও পথ মাড়িয়েছেন তিনি। তবুও কোনো সন্ধান পাননি।

নারায়ণগঞ্জে মাকে খুঁজে না পেয়ে এখন ঢাকা শহরে খুঁজবেন বলে পণ করেছেন তিনি। ঈদের ৯ দিন ছুটি পেয়েছেন, এই সময়ে পরিকল্পনা করেছেন যতটা পারা যায় ততটা সময় ঢাকা শহরে মাকে খুঁজবেন। মাকে হারিয়ে সচারচর বাড়ি যান না তিনি। কারণ মা-শূন্য বাড়ি তার কাছে ভালো লাগে না।

জাগো নিউজকে দবির বলেন, ‘২০২১ সালে মাকে হারিয়েছি। এরপর হাতেগোনা দু-একবার টাঙ্গাইল গিয়েছি। তবে মন টেকেনি তাই ফের নারায়ণগঞ্জ চলে এসেছি। যে বাড়িতে মা নেই সেই বাড়ি ভালো লাগে না।’

তিনি বলেন, ‘এবার ঈদেও ৯ দিন ছুটি পেয়েছি কিন্তু বাড়িতে যাইনি। পরিকল্পনা করেছি ৯ দিন ছুটি কাজে লাগিয়ে ঢাকা শহরের গলিতে গলিতে মাকে খুঁজবো।’

এমওএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।