ঈদের ছুটিতে বিয়ের হিড়িক
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে বিয়ের প্রস্তুতির ধুম লেগেছে। ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে অনেক পরিবারই বিয়ের আয়োজন করছে। ফলে পুরো জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের দেশে ফেরা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঈদের সময়টাকে বিয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছেন অনেকেই। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘটকসহ পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকরা। ঈদের পর বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় দাওয়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর-কনের আত্মীয়-স্বজনসহ তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ঈদের ছুটিকে ঘিরে ময়মনসিংহে বিয়ের এই জোয়ার সামাজিক আনন্দ-উৎসবে যোগ করবে নতুন মাত্রা।
একাধিক অভিজ্ঞ ঘটকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটির সময়গুলোতে বিয়ের ধুম পড়বে। প্রতিদিনই বিয়ের সানাই বাজবে মহল্লায় মহল্লায়। আর এতে ঈদ আনন্দ আরও বর্ণিল ও মুখরিত হবে।
ময়মনসিংহের অভিজ্ঞ ঘটক হারিছ উদ্দিন বলেন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, তারাকান্দা, ফুলপুর ও নান্দাইলে আমি ১২টি বিয়ে ঠিক করেছি। প্রত্যেকটি বিয়ে ঈদের পর পরই কয়েকদিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সাতজন পাত্র-পাত্রী নিজেরাই নিজেদের পছন্দ করেছে। আমি শুধু তাদের মধ্যে দেখাদেখির ব্যবস্থা করেছিলাম। পরে পরিবারের লোকজনও পছন্দ করেছে। বাকি পাত্রগুলো পাত্রীর পরিবার ও পাত্রীগুলো পাত্রের পরিবারের লোকজন আগে পছন্দ করেছে। পরে পাত্র-পাত্রী নিজেরাও নিজেদের দেখে পছন্দ করেছে।

ম্যারেজ মিডিয়ার ঘটক মো. আনিছ বলেন, ঈদের আগে-পরে আমাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেক পরিবার দ্রুত বিয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন। আগের তুলনায় এখন ছেলে-মেয়েদের পছন্দের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাত্র-পাত্রীর নিজেদের পছন্দ হওয়ার পর অনেকেই ঈদের পর বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেছে। ঈদের আনন্দ আর বিয়ের আমেজে শহর-গ্রাম সবখানেই আনন্দের বন্যা সৃষ্টি হবে।
আরেক ঘটক টিনা খাতুন (টিনা খালা) জানান, প্রবাসী ছেলেরা বিয়ের জন্য ঈদের সময়টাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যে সম্বন্ধ ঠিক করে বিয়ের আয়োজন করতে হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও আনন্দের। আমিও তিনটি বিয়ে ঠিক করেছি। এগুলো ঈদের পর সম্পন্ন হবে।
এদিকে বিয়ের আয়োজনের জন্য অনেক কমিউনিটি সেন্টার ও কেটারিং সার্ভিস বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের পর বিউটি পার্লারগুলোতে ব্যস্ততা আরও বাড়বে।
সোহাগ পার্টি সেন্টারের ম্যানেজার বলেন, ঈদের পর কয়েকটি বিয়ের তারিখ বুকড হয়ে গেছে। ঈদের ছুটি ঘিরে ময়মনসিংহে বিয়ের এই জোয়ার স্থানীয় অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও যেমন চাঙ্গা করবে, তেমনি সামাজিক আনন্দ-উৎসবেও যোগ করবে নতুন মাত্রা।

নগরীর দিঘারকান্দা এলাকার সোহেল মিয়া জানান, পাত্র পছন্দ হওয়ায় তার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। ঈদের পর অনুষ্ঠান করে মেয়েকে পাত্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বিয়ের এই রেওয়াজ আমাদের সমাজে এখন ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। আত্মীয়তা ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে এই প্রথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঈদের আনন্দ আর বিয়ের অনুষ্ঠান একসঙ্গে হওয়ায় অনেকেরই আনন্দ বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছরের দুইটি ঈদের পরই বিয়ের হিড়িক পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। কারণ অনেকেই ঈদের আনন্দ আর বিয়ের আনন্দের আয়োজন একসঙ্গে করতে চায়। ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসার ফলে ঈদের ছুটির মধ্যে আয়োজন করা বিয়েগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিও বাড়ে। এতে ঈদের আনন্দ বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
এফএ/এএসএম