প্রাণে বাঁচতে মসজিদে লাশের ভেতর লুকান মাসুম

নূর মোহাম্মদ
নূর মোহাম্মদ নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৭ মার্চ ২০১৯

চোখের সামনে হঠাৎ মৃত্যুর হানা। চারদকে গুলির শব্দ। ছোটাছুটি। রক্ত, মৃত্যু, কান্না, আহাজারি। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার সময় এমন মৃত্যুপুরি থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন কিশোরগঞ্জের ওমর জাহিদ মাসুম (৩৪)।

মসজিদে অসংখ্য মৃতদেহের স্তূপের সঙ্গে অজ্ঞান অবস্থায় পড়েছিলেন মাসুম। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পান কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ধনকীপাড়া গ্রামের সাবেক এমপি মরহুম হাবিবুর রহমান দয়ালের ছোট ছেলে ওমর জাহিদ মাসুদ।

মাসুম পরিবারের সদস্যরা জানান, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে স্ত্রীর সঙ্গে বাস করেন মাসুম। ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় কিশোরগঞ্জ জেলার অনেকে বসবাস করেন। প্রতি শুক্রবার তারা আল নূর মসজিদেই জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন।

মাসুমের বড় ভাই অ্যাডভোকেট ওমর জাকির বাবুল জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ওই মসজিদে যান ওমর জাহিদ মাসুদ। জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়েন। এ সময় একটি গুলি তার পেটের মাংস স্পর্শ করে চলে গেলেও তার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।

তবে প্রাণে বাঁচার জন্য মৃত্যুর ভান করে নিহত মুসল্লিদের রক্তাক্ত লাশের স্তূপের আড়ালে পড়ে ছিলেন। এরপরই জ্ঞান হারান। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ দিন রাতেই সুস্থ হয়ে বাসায় যান মাসুম। তবে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি তিনি। সন্ত্রাসী হামলার সেই ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মাসুমকে।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী নির্বাচনী এলাকার সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা মো. হবিবুর রহমান দয়ালের চার ছেলে এবং তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মাসুম। মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তথ্য প্রযুক্তিতে (আইটি) উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর স্টুডেন্ট ভিসায় নিউজিল্যান্ড যান ওমর জাহিদ মাসুম। পড়াশোনা শেষ করে সেখানকার একটি সুপার শপ এবং একটি পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এদিকে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়ায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাসুমের গ্রামের বাড়ির আত্মীয়-স্বজন।

নূর মোহাম্মদ/এফএ/এমএস

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :