হোটেল কক্ষে বেশি ঘুমিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ বেঁচে যান সারাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:০৬ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

স্ত্রী এবং ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে ইস্টার সানডের ছুটি কাটাতে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আকশাত সারাফ। বিশ্রামপূর্ণ একটি দিন উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় যান তিনি। কলম্বোর শাংগ্রি লা হোটেলের ২৫ তলার একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন পরিবার নিয়ে। প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলেও সেদিন তার ঘুম ভাঙে একটু দেরিতে।

পরে তিনি সকালের নাস্তার জন্য স্ত্রী, সন্তানসহ হোটেলের ক্যাফেটেরিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ পান। কিন্তু কেন এই শব্দ হয়েছে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি তিনি।

সারাফ বলেন, প্রথমবার যখন বিস্ফোরণ হয়; সেই সময় সকালের নাস্তার জন্য সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর এই বাসিন্দা স্কাইপিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

আকশাত বলেন, ওই মুহূর্তে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, আসলে এটা কীসের শব্দ। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম যে, হয়তো প্রচণ্ড বজ্রপাতের শব্দ...পুরো কক্ষ কেঁপে ওঠে।

কয়েক সেকেন্ড পর তিনি আবারও প্রবল শব্দ পান। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখতে পান, পথচারীরা এ ভবনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

‘আমি যখন বুঝতে পারি যে এই শব্দ বিস্ফোরণের এবং এটি আমাদের ভবনেই হচ্ছে। তখন আমার স্ত্রীকে পাসপোর্ট গোছানোর জন্য বলি এবং দ্রুত হোটেল রুম ত্যাগ করি।’ পরে তারা নিরাপদে ওই হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন।

রোববার ইস্টার সানডের দিনে সকালবেলা শ্রীলঙ্কাজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা হয়। এতে ৩২১ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় শোকের পাশাপাশি হামলায় নিহতদের গণশেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হামলার ১০ দিন আগে দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী চরমপন্থী ইসলামি একটি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে দিলেও কোনো আগাম ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে দেশটির ভেতরেই ক্ষমতাসীন সরকার প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এদিকে হামলার একদিন পর মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) শ্রীলঙ্কায় হামলা চালিয়ে ৩২১ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।

এসআইএস/জেআইএম

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :