মরদেহ চিনতে জুতাই সম্বল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় গত রোববার ইস্টার সানডে উদযাপনের সময় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা সাড়ে তিনশ’ ছাড়িয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে এখনও যাদের সন্ধান মেলেনি, তাদের স্বজনরা ভিড় করেছেন কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতাল মর্গে। কারণ শনাক্ত না-হওয়া মরদেহগুলি এখানেই রয়েছে।

মর্গের দরজা খুলে বেরিয়ে সামনের টেবিলে রাখা ল্যাপটপ খুলে বসেন চিকিৎসক। এ সময় তাকে ঘিরে কিছুটা ভিড় সৃষ্টি হয় মর্গের সামনে। সবার দৃষ্টি ল্যাপটপের মনিটরে। তাতে একের পর এক নিহতের মুখ ফুটে ওঠে। তবে সেগুলোকে মুখ বললে ভুল হবে। দলা পাকানো দেহ, তাল তাল রক্ত মাখা মাংসপিণ্ডের মাঝে কে যে কার প্রিয়জন, তা চেনাই দুষ্কর।

প্রিয় দাদুর সন্ধানে মাকে নিয়ে সেখানে এসেছেন এমএন জেনসন। সেদিন সেন্ট অ্যান্টনিস চার্চে ইস্টারের প্রার্থনায় যোগ দিতে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ তার প্রিয় দাদু। তবু হাল ছাড়তে চান না। জীবিত না হোক অন্তত মরদেহটা যেন পাওয়া যায় সেই আশায় ছুটছেন ইস্তক সরকারি হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে। ‘কোনোভাবে যদি ঘরে না-ফেরা মানুষটাকে শেষ বার চিনে নেয়া যায়। অন্তত শেষকৃত্যটা যদি...’ বলতে বলতে গলা বুজে আসছিল জেনসনের।

এদিকে রোবারের বিস্ফোরণে নিহত ও নিখোঁজদের তালিকা তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে কলম্বোর ক্যাথলিক সংগঠনগুলিও। সোমবার কলম্বোর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখেছেন দেশটির আর্চবিশপ শেলটন ডায়াস। তিনি বললেন, ‘প্রতিটা মরদেহ এতটাই বিকৃত যে, চেনা যাচ্ছিল না। জুতা ছাড়া বাচ্চাগুলোর নরম শরীরের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সন্ত্রাস এমনই নির্মম।’

জেনসন তার দাদুর পেলেও যুবক আরশাদ ইয়াহিয়ার ছিন্নভিন্ন মরদেহ ঠিকই চিনতে পেরেছেন স্বজনরা। ‘দ্য সিনামন গ্র্যান্ড’ হোটেলের কর্মী আরশাদের জন্মদিন ছিল সেদিন। এজন্য হোটেল কর্তৃপক্ষের দেয়া উপহার সকালের নাস্তা খেতে স্বপরিবারে এসেছিলেন আরশাদ। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন দুই মেয়ে ও স্ত্রী।

মর্গে দাঁড়িয়েই বৃদ্ধ চাচা খবর পান, হোটেলের পক্ষ থেকে আরশাদকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বললেন, ‘আমরা মুসলিম। আমাদের ধর্মে মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করতে হয়। আমরা আজই সেটা করতে চাই।’

এদিকে ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরেও স্বাভাবিক হয়নি শ্রীলঙ্কা। রাজধানী কলম্বোসহ বহু এলাকায় জারি রয়েছে জরুরি অবস্থা। বন্ধ স্কুল-কলেজ, দোকানপাট। বিভিন্ন স্থাপনা বিশেষ করে সরকারি ভবনগুলির বাইরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। পোড়া বারুদের গন্ধ, আর স্তব্ধ সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো দেশটাই যেন একটা মৃত্যুপুরী। সূত্র : পিটিআই

এমএমজেড/এমএস

টাইমলাইন