ঈদে বাড়ি ফেরা: বাস-রিকশা-মোটরবাইকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। সোমবার (১৬ মার্চ) কর্মজীবীদের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।
তবে টার্মিনালে পৌঁছাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে ঈদের বোনাসের অজুহাতে বাস, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া দাবি করছেন পরিবহন চালকরা। বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি না হলে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের তুলছেন না তারা।
মগবাজার থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আহমেদ আলী। তিনি জানান, বলাকা বাসে সাধারণত ভাড়া ১০ টাকা হলেও তার কাছে ২০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
একই অভিযোগ করেন আমিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমি খয়রাত করে খাই। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা চাইলে কীভাবে দেবো? তাই দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কোনো বাসে উঠতে পারিনি।’

এ বিষয়ে বলাকা বাসের হেলপার ফারুক বলেন, ঈদের সময় যাত্রীরা খুশি হয়ে বাড়তি ভাড়া দেন। আমরা কারও কাছে জোর করে নিচ্ছি না। সবাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবে, আর আমরা ঢাকায় থেকে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছি।
শান্তিনগর মোড়ে দাঁড়িয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছিলেন বাদল নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, শান্তিনগর থেকে সদরঘাট সাধারণত ২০ টাকা ভাড়া। এখন ৩০ টাকা চাচ্ছে। আমি স্টুডেন্ট বলার পরও তারা মানছে না। এজন্য দুইটা বাস ছেড়ে দিয়েছি।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাওয়ার জন্য আকসাদ আলীর কাছ থেকেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হয়। ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা চাওয়া হলে পরে ৩০ টাকায় তাকে বাসে উঠতে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মন্ত্রী বলেছেন বাড়তি ভাড়া নেওয়া যাবে না। তবুও কেন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে? যারা নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শুধু বাস নয়, রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মগবাজার ওয়ারলেস থেকে কমলাপুর যাওয়ার জন্য রিকশা ও অটোরিকশাচালকরা ১০০ টাকা ভাড়া দাবি করেন, যেখানে আগে একই দূরত্বে ভাড়া ছিল প্রায় ৫০ টাকা।
অটোরিকশাচালক মো. সুমন বলেন, এখন যাত্রী কম পাওয়া যায়, আবার গাড়ির জমা দিতে হয়। আমাদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েই সংসার চলে। তারা গ্রামে গিয়ে ঈদ করবে, আমাদেরও তো কিছু বোনাস বা বকশিশ আশা থাকে।
অন্যদিকে, মগবাজার ওয়ারলেস থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাওয়ার জন্য এক মোটরসাইকেলচালক ১৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। চালক হাবিব বলেন, অ্যাপসে গেলে ভাড়া কম আসে। দরদাম করে গেলে ভাড়া একটু বেশি পাওয়া যায়।
আরেক মোটরসাইকেলচালক সাব্বিরের কাছে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপে যেখানে ভাড়া ৮০ টাকা আসে সেখানে ১৫০ টাকা কেন চান? জবাবে তিনি বলেন, যেতে চাইলে যান, না হলে যাবেন না।
ইএআর/এসএনআর