কমলাপুরে মানুষের ঢল, ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১০ এএম, ১৯ মার্চ ২০২৬
কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ প্রতিটি ট্রেনে ঈদযাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে/ছবি: বিপ্লব দিক্ষিৎ

মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ছেন নানান শ্রেণিপেশার মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরমুখো মানুষের চাপ পথে পথে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকাজুড়ে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল মানুষের ঢল, যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কপথে যানজটের আশঙ্কা থাকায় অনেকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রার জন্য ট্রেনকে বেছে নিয়েছেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অধিকাংশ ট্রেনের ভেতর ছিল ঠাসাঠাসি অবস্থা। অনেক যাত্রী ভেতরে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদেও উঠতে বাধ্য হয়েছেন।

jagonews24

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিম হাসান জাগো নিউজকে জানান, গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত তার কয়েকটি টিউশনি ছিল। ঈদ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহের ছুটি দিয়ে আজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। অনলাইনে আগে টিকিট কাটতে না পারায় স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু যাত্রীর চাপ এত বেশি যে ট্রেনের ভেতরে জায়গা পাননি। ফলে নির্ধারিত পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে উঠতে হয়েছে তাকে।

তানিম বলেন, ‘এখন শুধু দোয়া করছি আবহাওয়া যেন ভালো থাকে। পরিবারের জন্য কিছু পোশাক কিনেছি। বৃষ্টি হলে ব্যাগ ভিজে যাওয়ার ভয় আছে। আজ আকাশ কিছুটা মেঘলা। তবে ভালো লাগছে এই কারণে যে, নির্ধারিত সময়েই ট্রেন পেয়েছি।’

jagonews24

দেওয়ানগঞ্জগামী যাত্রী আমিনুল ইসলামও তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছেন। কিন্তু টিকিট থাকলেও ট্রেনের ভেতরে ওঠার সুযোগ পাননি। তিনিও ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণের চেষ্টা করছেন।

আমিনুল বলেন, ‘যেভাবেই হোক ট্রেনের ছাদে উঠতে হবে। বাসে গেলে অনেক সময় লাগবে। এখান থেকে মহাখালী যেতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগতে পারে। তার ওপর ঈদের আগের দিন হওয়ায় রাস্তায় যানজট থাকার আশঙ্কা আছে। আমার সঙ্গে স্ত্রী ও বোন আছেন। আগে তাদের ছাদে উঠানোর চেষ্টা করছি, তারপর আমি উঠবো। একটু কষ্ট হলেও ট্রেনে গেলে তুলনামূলক দ্রুত ও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো যাবে।’

jagonews24

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী শফিউল্লাহ সিকদার জানান, তিনি নির্দিষ্ট বগির জন্য টিকিট কাটলেও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নিজের আসন পর্যন্ত পৌঁছুনোর সুযোগ পাননি। তবে চেষ্টা করছেন নিজের আসনের কাছে পৌঁছুতে।

এদিকে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিন ধাপে টিকিট যাচাইয়ের পর যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন না কেউ।

ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আফতাব জাগো নিউজকে জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে বেশ কয়েকটি কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে, যেন ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তেও যাত্রীরা স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। মোট বিক্রি হওয়া টিকিটের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এসব টিকিটে আসন না থাকলেও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবেন।

jagonews24

ঈদ ঘিরে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় ভোগান্তি থাকলেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দই যাত্রীদের যেন সব দুর্ভোগ ভুলিয়ে দিচ্ছে।

ইএআর/এমকেআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।