কমলাপুরে কড়াকড়ি: তিন ধাপে যাচাই শেষে প্রবেশের অনুমতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিনাটিকিটের যাত্রী ঠেকাতে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন ঘিরে দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া। যেনো টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে না। তিন ধাপে টিকিট যাচাই শেষে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে বিনা টিকিটে কেউ ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন না।

বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই কঠোর তদারকি দেখা গেছে। স্টেশনের প্রবেশপথ, প্ল্যাটফর্মের আগে এবং ট্রেনে ওঠার আগে এই তিন ধাপে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো যাত্রীর কাছে বৈধ টিকিট না থাকলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে কেউ কেউ প্রথম ধাপ পার হয়ে ভেতরে ঢুকলেও পরবর্তী ধাপে এসে আটকে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের স্ট্যান্ডিং বা দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট কেটে তবেই স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি মিলছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদযাত্রাকে সুশৃঙ্খল রাখতে আমরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। বিনা টিকিটে কেউ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এদিন কথা হয় ইয়ারুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অনলাইনে টিকিট কিনতে পারেননি। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বলেন, আমি নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু বারবারই সার্ভার ডাউন পেয়েছি। হয়তো একসঙ্গে অনেকেই প্রবেশের চেষ্টা করছিল, তাই অতিরিক্ত চাপ থাকায় প্রবেশ করতে পারিনি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ট্রেনের ছাদে উঠেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেব। কিন্তু কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে প্রথম ধাপে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দ্বিতীয় ধাপে এসে আটকে দেওয়া হয়। পরে আমাকে একটি স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয়েছে। সেটি নিয়েই এখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান শরিফুল ইসলাম। তিনি পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেট যাবেন, কিন্তু আগে থেকে টিকিট কাটতে পারেননি। স্টেশনে আসার পর টিটিই এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটকে দেন। পরে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আফতাব বলেন, আমাদের এখানে বেশ কয়েকটি কাউন্টার খোলা রাখা হয়েছে। ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তেও যাত্রীরা স্ট্যান্ডিং টিকিট নিতে পারছেন। মোট বিক্রি হওয়া টিকিটের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এতে যারা আসন পাবেন না, তারাও দাঁড়িয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারবেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কেউ যদি বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটকে দেওয়া হচ্ছে বা স্টেশন এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ছাড়ছেন। যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইএআর/জেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।