উত্তেজনা অবসানে রাজি ইরান, জানালেন কাতারের আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা দশ দিনের তীব্র উত্তেজনার পর নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। রোববার তেহরান সফররত কাতারের আমিরের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এই ইঙ্গিত দেন। বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমনই আঞ্চলিক সঙ্কট সমাধানের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

কাতারি এই আমির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনের একমাত্র সমাধান হলো সংলাপ। আর এতে রাজি হয়েছে তেহরান।

বাগদাদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর ইরাকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করতে রোববার তেহরান সফরে যান শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

রুহানির সঙ্গে বৈঠকের পর শেখ তামিম বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনই একমাত্র সমাধান বলে একমত হয়েছে কাতার এবং ইরান। তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ তামিম বলেন, এই অঞ্চলের সঙ্কটময় একটি সময়ে আমার এই সফর। আমরা ঐক্যমতে পৌঁছেছি যে, এই সঙ্কটের একমাত্র সমাধান হলো সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস। আর এটা সবপক্ষের থেকে আসতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতারেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মার্কিন সেনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোরাল সম্পর্ক রয়েছে। কাতারে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রের মালিকানাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাসান রুহানি বলেন, আমরা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি পরিমাণে পরামর্শ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। ইরানের এই প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির সঙ্গেও স্বাক্ষাৎ করেছেন।

রোববার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত বিশ্ব শান্তি এবং স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি বলেছেন, গত বুধবার ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রাণহানি সেই হামলার ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন কোনও কর্মকর্তার ক্ষয়ক্ষতির হয়নি।

গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশি সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতারের আমিরই প্রথম ইরান সফর করলেন। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অল্প যে কয়েকটি দেশের জোরাল সম্পর্ক রয়েছে; কাতার সেসব দেশের একটি।

এসআইএস/পিআর

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।