৫২ যুদ্ধবিমানের মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানে হামলার প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০২ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২০

৫২টি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের মহড়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় উতাহ অঙ্গরাজ্যের একটি ঘাঁটি থেকে ৫২টি সামরিক অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধবিমানের বিশাল মহড়া চালানো হয়েছে।

এফ-৩৫ মডেলের এই যুদ্ধবিমান অত্যন্ত দক্ষ ও শক্তিশালী। ‘যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে’-শক্র বিমান এ বিষয়টি বোঝার আগেই সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই বিমানের।

এই বিমানের গতি শব্দের গতির চেয়ে বেশি এবং এগুলো রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। উচ্চ প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে পাইলট ককপিটে থেকে বিমানের নিচে ভূমি পর্যন্ত সবকিছুর ছবি ৩৬০ ডিগ্রি কোণে দেখতে পারেন।

এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় চার দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় সময় সোমবার উতাহ অঙ্গরাজ্যের হিল এয়ার ফোর্স বেস থেকে যুদ্ধবিমানগুলো মহড়ার প্রস্তুতি নেয়।

গত শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এই সঙ্গে, সোলেইমানির মৃত্যুতে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দেয় তেহরান। নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধ পরিকর ইরান বুধবার সোলেইমানিকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরাকে দু'টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

বুধবার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে দু'বার হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আইন আল আসাদ এবং কুর্দিস্তানের ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।

এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করা হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন মিত্ররা আক্রান্ত হবে বলেও হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এদিকে, জেনারেল সোলেইমানিকে হামলা চালিয়ে হত্যার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, ইরান যদি এই হত্যার বদলা নিতে কোনো মার্কিনি বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পদের ওপর হামলা চালায় তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও সাংস্কৃতি ৫২ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যে ৫২ স্থানকে টার্গেট করেছে সেখানে হামলার জন্যই ৫২টি যুদ্ধবিমানের মহড়া শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করেছে। এর মধ্যে কিছু ইরানের প্রথম সারির এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এগুলো ইরানের সংস্কৃতি এবং ইরানিদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে খুব দ্রুত ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

১৯৭৯ সালের নভেম্বরে তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে ৫২ জন আমেরিকানকে জিম্মির প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জিম্মি হওয়া ওই লোকজন ৪৪৪ দিন বন্দি ছিলেন। ওই ৫২ জনের কথা স্মরণ করেই ইরানের ৫২ স্থানকে টার্গেট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কয়েক মাস ধরেই এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এফ-৩৫ এ বিমানগুলো পুরোপুরি যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। ৪১৯তম ফাইটার উইংস এক টুইট বার্তায় বলেছে, আমরা ওড়ার জন্য, যুদ্ধ করতে এবং জয়ী হতে প্রস্তুত রয়েছি।

টিটিএন/পিআর

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।