সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল

৬ তলায় কাতরাচ্ছে হাম আক্রান্ত শিশুরা, নিচে গানের তালে নাচলেন নার্সরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ১২ মে ২০২৬
বিশ্ব নার্স দিবসে নাচছেন নার্সরা/ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া

হাম ও হাম উপসর্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫ শিশু। যন্ত্রণায় তারা কাতরাচ্ছে। তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা। এ অবস্থায় এসব শিশুর পাশে থাকার কথা ছিল নার্সদের। অথচ তারা গানের তালে নাচলেন।

বিশ্ব নার্স দিবসে মঙ্গলবার (১২ মে) ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নার্সরা সকালে শোভাযাত্রা বের করেন। এর আগে হাসপাতালের নিচে প্রধান ফটকে ব্যান্ড পার্টির উচ্চ শব্দে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন তারা। এ-সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

৬ তলায় কাতরাচ্ছে হাম আক্রান্ত শিশুরা, নিচে গানের তালে নাচলেন নার্সরা

এসময় সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ আবুল কালামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৮৫ শিশু। হাসপাতালের ছয়তলায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এসব রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ওষুধ সংকট ও স্বাস্থ্য সেবার মান এবং নার্সদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘ছেলে হামে আক্রান্ত। অথচ হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি, সব ওষুধ কিনে নিয়ে এসেছি। কখনো নার্সকে যদি বলি ছেলের ইনজেকশন লাগবে, তারা রোগীর কাছে না গিয়ে রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।’

৬ তলায় কাতরাচ্ছে হাম আক্রান্ত শিশুরা, নিচে গানের তালে নাচলেন নার্সরা

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অভিভাবকরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। অথচ নার্সরা উচ্চ শব্দে গানের তালের নাচে মগ্ন। তাও হাসপাতালের প্রধান ফটকে!’

হাসপাতালে ভর্তি শিশুর স্বজন আব্বাস মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘তাদের (নার্স) যেহেতু দিবস, সেটা তারা হাসপাতালের বাইরে গিয়েও করতে পারতো। উচ্চ শব্দে যেভাবে তারা নাচলো, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

আকলিমা নামের আরেকজন বলেন, ‘চারদিন ধরে নাতনি অসুস্থ। ভালো করে শ্বাস নিতে পারে না। এজন্য মনটা অনেক খারাপ। অথচ আজ হাসপাতালের সামনে কেউ কাঁদছে কেউ নাচছে।’

সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য খলিল রহমান বলেন, ‘দিবস পালন করবে ভালো কথা, তবে হাসপাতালে ভেতরের ফটকে এভাবে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নার্সদের নাচা উচিত হয়নি বলে আমি মনে করি।’

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নার্স দিবস উদযাপন বা পালন উপলক্ষে অবশ্যই তারা (নার্স) আনন্দ উপভোগ করবেন। কিন্তু সময়-পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে করলে সবার জন্য ভালো।’

লিপসন আহমেদ/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।