লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩

দশ বছরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সম্পদ বেড়েছে বহুগুন। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোননয় পত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এর আগেও দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

গত ১০ বছরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের রেকর্ড পরিমাণ সম্পদের একটি বড় উৎস হলো কৃষি। এই খাতে বছরে ২৫ লাখ টাকার বেশি আয় করেন তিনি। এছাড়া অন্যান্য খাতেও তার আয় বেড়েছে।

হলফনামায় তিনি লিখেছেন, কৃষি থেকে তার বছরে আয় ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৪ টাকা, শেয়ারবাজার ও ব্যাংক আমানত থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার ২০১ টাকা এবং পারিশ্রমিক, ভাতা, সম্মানী হিসেবে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৫ টাকা আয় করেন তিনি। এই হিসাবে তার আয়ের বড় অংশটি আসে পারিশ্রমিক, ভাতা ও সম্মানী থেকে।

তার নগদ রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৬ টাকা, যা পাঁচ বছর আগে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ৬ লাখ টাকা। ১০ বছর আগে সংসদ নির্বাচনের সময় নগদ ছিল ৯ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৮ টাকা।

এছাড়া বর্তমানে তার ব্যাংকে আছে ২৯ লাখ ১ হাজার ৯১৫ টাকা এবং পোস্টাল সেভিংস রয়েছে ৪০ লাখ টাকার, যার অর্ধেক তার স্ত্রীর নামে। তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করছেন তার দাম ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে একটি মাইক্রোবাস রয়েছে, যার দাম ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মোনালিসার নগদ টাকা রয়েছে ৪৭ লাখ, ব্যাংকে জমা আছে দেড় লাখ, সঞয়পত্র কেনা আছে ২০ লাখ, ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে ৪০ লাখ টাকা।

ফরহাদ হোসেনের নিজের ২৫ ভরি ও স্ত্রীর ১৩০ ভরি সোনা রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি বেশ কিছু জমিজমার তথ্য এবারের হলফনামায় দিয়েছেন। তার কৃষিজমি রয়েছে ২৭৪ শতক। রাজধানীর উত্তরায় ১ হাজার ৬০০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাট তার নামে রয়েছে, তবে তা বুঝে পাননি। এছাড়া একটি দোতলা পাকা বাড়ি রয়েছে তার।

এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন যে হলফনামা দাখিল করেছিলেন তা নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে ২০ লাখ টাকা ছিল। তখন তিনি কোনো গাড়ির মালিক ছিলেন না, ছিল না কোনো কৃষি জমি, ব্যবসা এমনকি কোনো ফ্ল্যাট।

এরপর একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় দেড় কোটিরও কম টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। ওই সময় তার কাছে নগদ ছিল ৬ লাখ টাকা। এছাড়া তখন তার ছিল ৮০ লাখ টাকা দামের একটি গাড়ি, সোনা ও মূল্যবান ধাতু ছিল ২০ লাখ টাকার, আসবাবপত্র ছিল ৫ লাখ টাকার এবং ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদ ছিল ৩০ লাখ টাকার। ওই বছর তার সঞ্চয়পত্র ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৩৫৩ টাকার। কৃষি থেকে আয় ছিল ৪ লাখ ও অন্যান্য খাত থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

আসিফ ইকবাল/এফএ/জেআইএম

টাইমলাইন  

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।