ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে এই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রাত ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্তও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল, তবে সেগুলোর সঠিক অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই বিস্ফোরণের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি নৌবহর মোতায়েন করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে স্থলভিত্তিক হামলার সম্ভাবনার কথাও প্রকাশ্যে তুলেছেন।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কথিত মাদকবাহী নৌযানের সঙ্গে যুক্ত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে।
তবে এটি সামরিক বাহিনী নাকি সিআইএ পরিচালিত অভিযান ছিল—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি ট্রাম্প। হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানও তিনি উল্লেখ করেননি; শুধু বলেন, এটি ছিল উপকূলীয় এলাকায়।
নতুন এই হামলাই ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থলভিত্তিক হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সোমবারের হামলার বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি উন্মুক্ত।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি মাদক কার্টেল পরিচালনার অভিযোগ তুলেছে এবং বলছে, তারা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। তবে বামপন্থি নেতা মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে।
ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির আকাশসীমা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ভেনেজুয়েলার তেলবোঝাই ট্যাংকার জব্দের নির্দেশ দিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প এই অঞ্চলের মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে স্থল হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এসব অভিযান শিগগিরই শুরু হবে।
এছাড়া, সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে বহু নৌযানে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তবে লক্ষ্যবস্তু নৌযানগুলো সত্যিই মাদক পাচারে যুক্ত ছিল—এমন কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন প্রকাশ করেনি। এতে এসব অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সমুদ্রভিত্তিক অভিযানে অন্তত ৩০টি হামলায় কমপক্ষে ১০৭ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম