ট্রাম্পের আপত্তি, ভেনেজুয়েলার শাসক হতে পারছেন না নোবেলজয়ী মাচাদো!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
মাচাদোর যথেষ্ট জনসমর্থন নেই বলে মনে করেন ট্রাম্প/ ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শাসক বদলের ক্ষেত্রে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মারিয়া কোরিনা মাচাদো ‘ভদ্র ও ভালো মানুষ’ হলেও ভেনেজুয়েলার ভেতরে তার যথেষ্ট সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা নেই।

ট্রাম্পের কথায়, ‘আমি মনে করি, তার পক্ষে দেশটির নেতা হওয়া খুবই কঠিন হবে।’ বরং যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সরকারের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

হতাশ মাচাদো শিবির

ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার বিরোধী শিবির ও মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মহলে বিস্ময় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। গত মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের আগে থেকেই মাচাদো আত্মগোপনে ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং বরাবরই বলে আসছিলেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে তার দল সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত।

আরও পড়ুন>>
শান্তি নয়, রাজনৈতিক কারণেই নোবেল পেলেন ‘যুদ্ধবাজ’ মাচাদো?
গণহত্যার পরও ইসরায়েলকে সমর্থন জানান মাচাদো

নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করলেন মারিয়া কোরিনা

তবে মাচাদোর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় মাচাদো ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকতে পারে।

মাচাদো ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেসের জন্য গঠিত নতুন মুখপাত্র দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

বিরোধীদের প্রস্তুতি, বাস্তবতা ভিন্ন

মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও দিনের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। এতে ছিল স্বল্পমেয়াদি উদযাপন, দ্রুত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেনাবাহিনীর অধিকাংশ কর্মকর্তার সমর্থন নিশ্চিত করার কৌশল।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন পথে গড়িয়েছে। শনিবার ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে মাচাদো আবারও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ‘জনতার রায়’ অনুযায়ী বিরোধীরা ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত। ওই নির্বাচনের পর বিরোধীরা ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের কপি সংগ্রহ করে দাবি করে, ৭৬ বছর বয়সী সাবেক কূটনীতিক এদমুন্দো গনসালেস প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে মাদুরোকে পরাজিত করেছিলেন। বর্তমানে গনসালেস স্পেনে নির্বাসনে রয়েছেন।

মাচাদো বলেন, ‘গনসালেসের অবিলম্বে দায়িত্ব নেওয়া উচিত এবং তাকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’

ট্রাম্প–মাচাদো সম্পর্ক ও তেলের হিসাব

ট্রাম্প অতীতে মাচাদোকে ঘিরে মিশ্র বার্তা দিয়েছেন। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর তাকে ফোনে অভিনন্দন জানানোর কথা স্বীকার করলেও পরে প্রকাশ্যে বলেন, তিনি ঠিকমতো জানেন না মাচাদো কে। আবার একই সঙ্গে তাকে ‘উদার’ ও ‘ভালো মানুষ’ বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কয়েকজন উপদেষ্টার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। বিরোধী শিবিরের ঘনিষ্ঠদের ধারণা, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট হলে মাচাদোর জন্য কোনো না কোনো ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

শনিবার ট্রাম্প আরও বলেছেন, বড় বড় মার্কিন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, বিশেষ করে নষ্ট হয়ে যাওয়া তেল অবকাঠামো মেরামতে। তার মতে, এতে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই লাভবান হবে।

মাচাদোর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ল্যান্ড অব গ্রেস’-এ ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ভূমিকা কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে বিরোধীদের ওপর চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে, যাতে তারা মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সমন্বয় করে এগোয়।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, জাপান টাইমস
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।