অষ্টম তলায় আগুনের সূত্রপাত : তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৯

বনানীর এফআর টাওয়ারের অষ্টম তলায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে মনে করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

রোববার বনানী থানা পুলিশের অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে গণশুনানি শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং তদন্ত কমিটির সভাপতি ফয়জুর রহমান।

গণশুনানিতে ২৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ভবনটির অষ্টম তলার স্পেক্ট্রা এসএন নামের একটি বায়িং হাউস থেকে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। ওই আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৬ জন। এছাড়া বহু লোক আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফয়জুর রহমান বলেন, ‘গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে যাতে আমরা উত্তরণ করতে পারি, সে বিষয়ে সুপারিশের জন্য এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। গণশুনানি তদন্ত কাজের একটি অংশ।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, তাদের (প্রত্যক্ষদর্শী) ভাষ্য অনুযায়ী আমরা জানতে পেরেছি, ভবনের অষ্টম তলায় স্পেক্ট্রা এসএন নামে একটি বায়িং হাউসের অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত। তারা বলেছেন, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা বলেছেন কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। তারা যে ফায়ার এক্সিট বলছেন তা ছিল অত্যন্ত সরু। সেখানে কোনো নির্দেশনা ছিল না কোন দিকে ফায়ার এক্সিট। কোনো কোনো তলায় নাকি আবার এক্সিট ডোর আটকানো ছিল। ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও নিরাপত্তা কর্মীরা তা ব্যবহার করতে পারেননি।

অপরদিকে অষ্টম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে স্পেক্ট্রা এসএন বায়িং হাউসের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. কফিল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখেছি উপর থেকে আগুনের ফুলকি পড়ছে। পরে আমরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। আমাদের ফ্লোরে আগুন লাগেনি।’

জমির মালিকেরও বক্তব্য নেয়া হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ ভবনটি নির্মাণে যারা কাজ করেছেন তারা এখন পর্যন্ত কোনো কাগজপত্র দেয়নি। তাদের কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য সময় দিয়েছি।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন ফয়জুর রহমান।

আরএমএম/এনডিএস/জেআইএম

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :