স্ত্রীকে ফোন করে দোয়া চেয়েছিলেন আতিকুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৯

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগ্নিকাণ্ডে নিহত শরীয়তপুরের মির্জা আতিকুর রহমানের (৩৮) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তিনি ওই ভবনের ১৩ তলায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

নিহত মির্জা আতিকুর রহমানের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের পূর্বসারেঙ্গা গ্রামে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকে মাতম করছেন মা, ভাই-বোন, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনরা।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, পূর্বসারেঙ্গা গ্রামের মৃত মির্জা আব্দুল কাদিরের ছেলে মির্জা আতিকুর রহমান চাকরির সুবাদে ১৫ বছর আগে ঢাকায় যান। তিনি স্ত্রী, ১০ বছর বয়সী মেয়ে মির্জা তাসফিয়া আক্তার তানহা ও চার বছরের ছেলে মির্জা রাফিউর রহমানকে নিয়ে ঢাকার এসিবি চত্বর মানিকদি বাজার আমতলিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আতিকুর স্ক্যানওয়াল লগিস্টিক বাংলাদেশ (প্রা.) লি. কোম্পানিতে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এফআর টাওয়ারের ১৩ তলায় অফিস ছিল তার।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এফআর টাওয়ারের ৯ম তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়েলে ওই ভবনের ১৩ তলার অফিসে আটকা পড়েন আতিকুর। পরিবার অনেক খোঁজ করেও তাকে পায়নি। পরে ওইদিন রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ শনাক্ত করেন আতিকুরের চাচাতো ভাই মির্জা বাদল। পরে শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে মরদেহ শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। দুপুর দুইটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মির্জা আতিকুর রহমানের স্ত্রী এনি আক্তার পলি বলেন, তখন দুপুর ১টা ১০মিনিট। আমার কাছে মোবাইলে আতিকুর ফোন করে। আমাকে বলে, আমার জন্য দোয়া করো। তখন আমি বলি- কেন এ কথা বলছো। তখন বলে- অফিসে আগুন লাগছে। ধোঁয়ায় অফিস ভরে গেছে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, আমার আতিকুর মারা গেছে। সন্তানরা এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে।

মির্জা আতিকুর রহমানের ভাই মির্জা আবুল হোসেন বলেন, এফআর টাওয়ারে আগুন লাগলে ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। সেই ভবনে আমার ভাই চাকরি করতো। সেদিন অফিসে ছিল, অফিস থেকে বের হতে পারেনি ভাইটা। অক্সিজেনের অভাবে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছে আমার ভাই। আল্লাহ কেন এমন করলা?

চাচাতো ভাই মির্জা বাদল বলেন, আতিকুর অনেক ভালো ছিল। এভাবে সে মারা যাবে কল্পনাও করতে পারিনি। তার মৃত্যু মানতে পারছি না।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাটি খুবই বেদনাদায়ক। জেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।

ছগির হোসেন/আরএআর/পিআর

টাইমলাইন  

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]