বেজেই চলেছে ফোন, ধরছে না ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৯

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের ২২ তলা ভবনের ৮ তলায় রিলায়েন্স গ্লোবাল লজেস্টিক লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সালাহউদ্দিন মিঠু। ভবনটিতে আগুন লাগার পর তাকে ফোনে পাচ্ছেন না বাবা সামসুদ্দিন। ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন তিনি। কোথাও লাশ নিয়ে যেতে দেখলে জানতে চাচ্ছেন কার লাশ কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন মিঠুর বাসা মগবাজারের মধুবাগে। বাবা সামসুদ্দিন পেশায় একজন ড্রাইভার। তিনি জানান, তার ফোন সচল রয়েছে। কল দিলে রিং বাজছে কিন্তু ধরছে না। তিনি সকালে বাসা থেকে বের হইছেন। এখনো তিনি বাসায় ফেরেননি।

বাবা সামসুদ্দিন জানেন না তার ছেলে আ-দৌ বেঁচে আছেন কি না।

ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদের মধ্যে ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং ঘটনাস্থলে ১৩ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জন।

হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ। তিনি জানান, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না- তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে।

এদিকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)।

জানা গেছে, ঢামেকে নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কুর্মিটোলায় নিহতের নাম নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের বহুতল ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ভবনের ভেতরে থেকে এখনো শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে অবিরত পানি ছুড়ছেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ভবনের নিচে এখনো উৎসুক জনতা ভিড় করে আছেন। ফলে ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, ডিএনসিসির পানি সরবারহ করার গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

ভবনটিতে দ্য ওয়েভ গ্রুপ, হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড ছাড়াও অর্ধশতাধিক অফিস রয়েছে।

এআর/এসআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন  

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]