এফআর টাওয়ারের ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল অকার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ৩০ মার্চ ২০১৯

বনানীর এফআর টাওয়ারের ফায়ার হাইড্রেন্ট অকার্যকর ছিল বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান।

তিনি বলেন, ভবনটির ৮, ৯ ও ১০ তলায় গেছি। কোথাও ফায়ার হাইড্রেন্ট কার্যকর দেখতে পাইনি। এছাড়া কোন ফ্লোর থেকে আগুনের সূত্রপাত তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। ভবনটির ফায়ার এক্সিট সরু, সিঁড়ি মাত্র ২৪ ইঞ্চি। যে কারণে বেশি মানুষ মারা গেছে। আমরা ওই তিন ফ্লোরে যেসব প্রতিষ্ঠান ছিল তাদের সঙ্গে রোববার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কথা বলবো।

শনিবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে প্রথমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভবনটিতে প্রবেশ করেন। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সদস্যরা যান ভবনটিতে।

৩ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে উল্লেখ করে ফয়জুর রহামন বলেন, প্রতিবেদনে আগুনের কারণ, উত্তরণের উপায়, গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ করা হবে।

অপরদিকে অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদারের নেতৃত্বে এফআর টাওয়ার পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির ছয় সদস্য। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরের ডেকোরেশন ঠিক ছিল না। এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার যোগাযোগ পথ ছিল ব্যাহত। আগুনে ভবনের টেম্পার নষ্ট হয়ে গেছে। বুয়েটের তদন্ত দল ভালো বলতে পারবে ভবনটি কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে।’

এর আগে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফয়জুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কমিটিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বুয়েট এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন।

অপরদিকে ওই ভবনের নকশা অনুমোদন এবং নির্মাণ কাজে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল কিনা তা তদন্তে ছয় সদেস্যর আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

পূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. ইয়াকুব আলী পাটওয়ারীকে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে রয়েছেন স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসীর, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা) আবু সাঈদ চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম এবং রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং সার্বিক বিষয় তদন্ত করে সুপারিশ দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ছয় সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদারকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে মতামত ও সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি, ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশের গুলশান জোনের উপ কমিশনার এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ সচিব মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ভূইয়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে পাঁচ সদস্যের আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ওই ভবনের নবম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং পুলিশ, র‌্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। আগুনে ২৫ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেইউ/এএইচ/এমকেএইচ

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :