‘আমি বিশ্বাস করি না, আমার ভাই নাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৯
স্ত্রীর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল আব্দুল্লাহ আল ফারুক

সাত-আটজন ঘিরে আছে তাকে। এর বাইরেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা, ছবি তোলার ভিড়ে যেন দম পাচ্ছিলেন না। ঘামে, কান্নায় অস্থির মাঝে মাঝেই চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, আমার ভাই নাই। যত টাকাই লাগুক আমার ভাইরে চিকিৎসা করান। আ আ আ…(কান্না)।’

ভাইয়ের জন্য বিলাপকারী এই ব্যক্তির নাম আব্দুল আল মামুন। তার ভাই আব্দুল্লাহ আল ফারুক তমাল রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফআর টাওয়ারে আগুনে মারা গেছেন। তমালের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

ভবন থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

তমালের এক ছেলে ও এক মেয়ে। প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের নাম মানহা। তবে ছেলের বয়স দুই বছর হলেও তার নাম জানা যায়নি। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে। তিনি থাকতেন রাজধানীর শারুলিয়া ডেমরায়।

তমালের বন্ধু মুস্তফা কামাল জানান, যখন আগুন লাগে তখন তমাল ছিল ১১ তলায়। সর্বশেষ তমালের সঙ্গে তার বেলা সাড়ে ৩টায় ফোনে কথা হয়। তখন সে ১২ অথবা ২২ তলায় ছিল। তারপর থেকে ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তারা জানতে পারেন তমাল মারা গেছে।

Tomal

প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে মানহার সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল ফারুক

নিহত আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পকেট থেকে তিনটি আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ এবং মায়ের নাম জান্নাতুল ফেরদৌস।

তিনি নটর ডেম থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় ২০০৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলে থাকতেন তিনি। ২০১০-১১ সেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন ফারুক।

পড়াশোনা শেষে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর সর্বশেষ ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেডে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাজধানীর বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফআর টাওয়ারে ছিল তার অফিস। অফিসে কর্তব্যরত অবস্থায় আগুন লাগলে তার মৃত্যু হলো।

টেলিভিশনে আব্দুল্লাহ আল ফারুক তমালের নাম দেখে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন তার বন্ধু রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তমাল ভালো ছাত্র। পড়াশোনার বাইরেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার অংশগ্রহণ ছিল। তমাল স্ত্রী ও এক মেয়েকে রেখে আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিল।’

পিডি/এমএএস/এসআর/পিআর

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :