মানুষকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ, আসুন পাশে দাঁড়াই

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১৫ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৯

বন্যায় ভাসছে দেশ। বন্যা কবলিত মানুষের হাহাকার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এ বছর প্রথমে ১০ জেলা কবলিত হলেও এখন ৩০ জেলা ছাড়িয়ে গেছে। দিন যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ। কৃষকের ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে সর্বস্বান্ত প্রায়। ধ্বংস হচ্ছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

দেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং মোকাবিলা সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয় বিশিষ্টজনের কাছে। মতামত নিয়ে গ্রন্থনা করেছেন সায়েম সাবু। আজ থাকছে তার দ্বিতীয় পর্ব।

বন্যায় মানুষ না খেয়ে, অথচ টাকা পাচার বন্ধ নেই
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম; সভাপতি, সিপিবি

রাষ্ট্র আর সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে না। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, রাষ্ট্র বন্যাকবলিত মানুষের সঙ্গে খুবই দায়িত্বহীন আচরণ করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ না খেয়ে মরছে, আর সরকার সেই বন্যা নিয়ে রাজনীতি করছে। ত্রাণের নামে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ফটোসেশনে ব্যস্ত। বন্যায় মানুষ না খেয়ে, অথচ টাকা পাচার বন্ধ নেই।

সাধারণ মানুষ নিজেই বাঁচার সংগ্রামে লিপ্ত। শুধু একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন বন্যা আক্রান্ত প্রতিটি জেলায় সহায়তা করছে। মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছে।

আমরা মনে করি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সচ্ছল ব্যক্তিরা দাঁড়ালেই বন্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। নইলে গরিব মানুষ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

food

আপাতত মানুষকে বাঁচিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক; সাবেক উপাচার্য, ঢাবি

প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা। নারী, শিশু, বৃদ্ধরা ঝুঁকিতে থাকে বেশি। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে না পারলে বড় ধরনের মাসুল দিতে হয়। বন্যার ক্ষতি তাৎক্ষণিক যেমন, দীর্ঘমেয়াদী আরও বেশি। কৃষক সর্বহারা হয়ে যায়। গরিব মানুষ কূল পায় না। বন্যা স্থায়ী হলে অভাবও স্থায়ী হয়।

এবার বন্যার আগাম বার্তা ছিল বলে প্রস্তুতি ভালো থাকার কথা। স্ব স্ব জেলার প্রশাসন বন্যা মোকাবিলায় কাজ করছে বলে আমরা খবরে জানতে পাচ্ছি। সরকার এখন আগের থেকে সজাগ। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সামর্থ রাখে বলে বিশ্বাস করি। আমি মনে করি, আপাতত মানুষকে বাঁচিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ। মানুষ বেঁচে থাকলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেই।

বন্যা মোকাবিলার পরের ধাপ হচ্ছে পুনর্বাসন। আর এ ক্ষেত্রে শিক্ষার ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে সব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার বা নির্মাণে অগ্রাধিকার থাকতে হবে। শিক্ষার ক্ষতিটাই দীর্ঘস্থায়ী। এটি প্রশাসনকে বুঝতে হবে। সর্বোপরি আমি মনে করি, বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়টা খুবই জরুরি।

মূলত বন্যার দুর্ভোগ অব্যবস্থাপনারই ফল
আনু মুহাম্মদ; জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের নেতা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছু করার চাইতে সরকার আসলে বেশি কথা বলছে। আমরা সরকারগুলোর মধ্যে এমনটি দেখে আসছি। সবকিছু নিয়েই রাজনীতি হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ হয় না।

বন্যা কেন হয় -এ প্রশ্নের উত্তর আগে খোঁজা দরকার। ভারত বাংলাদেশে বন্যার ক্ষেত্রে নির্মম ভূমিকা পালন করছে। নদীগুলোর সর্বনাশ হচ্ছে ভারতের কারণে। আবার দেশীয় লুটেরাও নদী দখলে প্রতিযোগিতায় মরিয়া। নদীর নাব্যতা নেই। ভরাট করে ফেলা হচ্ছে সব। অপরিকল্পিত উন্নয়ন পরিবেশের কী ক্ষতি করছে, তা সরকার স্বীকার না করলেও একজন সাধারণ মানুষও টের পাচ্ছেন। অথচ এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

বন্যা মোকাবিলার স্থায়ী সমাধান না করতে পারলে মানুষের হাহাকার আরও বাড়বে। মূলত বন্যার দুর্ভোগ অব্যবস্থাপনারই ফল।

flood

গরিবের ত্রাণ নিয়ে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ এখন অনেক সচেতন। আপনি চাইলেই প্রভাবিত করতে পারবেন না। এ কারণে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে আপনাকে সত্যিকার ভালোবাসার মানসিকতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবার আগে আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সরকার তাই করেছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে ৬টি ইউনিট করা হয়েছে। ইউনিটগুলো বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করেছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত ত্রাণ দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ওষুধ, শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্যা মূলত প্রাকৃতিক কারণে হয়ে থাকে। তবে মানুষ সৃষ্ট কারণেও মানুষ বন্যার কবলে পড়ছে। প্রকৃতির ওপর হয়ত মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে বন্যা মোকাবিলায় যথেষ্ট করণীয় থাকে। আমাদের সেই দিকটাই মাথায় রাখা উচিত।

ত্রাণ বিতরণ নিয়েও নানা সময়ে অভিযোগ আছে, এটি অস্বীকার করা যাবে না। তবে সরকার আগের থেকে বেশি সজাগ। গরিবের ত্রাণ নিয়ে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বানভাসী মানুষের পাশে সরকার আছে। সর্বস্তরের মানুষকেও পাশে চাইছি আমরা।

এএসএস/আরএস/জেআইএম

টাইমলাইন