গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৯

গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এরই মধ্যে সোমবার দুপুরে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে লাজুক মিয়া (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে রাত জেগে ডাকাত পাহারা দিতে হয়।

জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জাগো নিউজকে বলেন, বন্যার পানিতে ১৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ফসল ও শাক-সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট রয়েছে।

gaibanda

সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান মুন্সিপাড়ার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের বন্যায় আমার সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে আমনের বীজতলা। যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী দুই বছরেও পূরণ হবে না।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম ফেরদৌস বলেন, জেলায় ১২ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে। রোপা আউশ ৯৭৭ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৪৩৯ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪৬১ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ২৪৭ হেক্টর, পান ৩ হেক্টর এবং তিল ২৫ হেক্টরসহ ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর অন্যান্য ফসলসহ মোট ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, স্কুলগুলোতে পানি উঠায় এবং পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় ২৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৬৬টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার একটি এবং ফুলছড়ি উপজেলার তিনটিসহ চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

gaibanda

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সব উপজেলায় কাজ করছে ৬১টি টিম।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে সাড়ে ৯০০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৬০০ শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৪ হাজার ১০৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া বন্যায় ৫৭৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ২৩৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ, ২১টি কালভার্ট এবং ১০ হাজার ৮৩৩ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

gaibanda

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, গাইবান্ধায় গত ১২ ঘণ্টায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার, শহরের ব্রিজরোড পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চিন্তার কারণ নেই। যতদিন দুর্যোগ থাকবে ততদিন বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ অব্যাহত থাকবে।

জাহিদ খন্দকার/এএম/এমএস

টাইমলাইন