কুড়িগ্রামে বন্যায় চার শিশুর মৃত্যু, তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৯

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়ছে বানভাসি মানুষের সংখ্যা। সেই সঙ্গে এ পর্যন্ত বন্যায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৫৫টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্লাবিত হয়েছে ৩৯০টি গ্রামের প্রায় তিন লাখ মানুষ।

আরও পড়ুন : লালমনিরহাটে চরম খাদ্য সংকটে বন্যাকবলিতরা

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের হাবিবুল্লাহ (৬), ফুলবাড়ীতে এক শিশু ও চিলমারী উপজেলায় দুই শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় এসব শিশুর নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার সকালে কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী মহাসড়কের চার-পাঁচ জায়গায় হাঁটুপানি প্রবাহিত হওয়ায় ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। নাগেশ্বরীতে নদী তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন : তিন নদীর পানি বেড়ে ৪৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, বন্যায় কুড়িগ্রামের তিনটি পৌরসভাসহ ৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি ইউনিয়নের ৩৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৭৩ হাজার ৫১১টি পরিবারের দুই লাখ ৯৪ হাজার ৪৪ জন মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা সবাই পানিবন্দি আছেন। সেই সঙ্গে ২৭৫ প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৬টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ৫২২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Kurigram-flood

অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়া এলাকায় দুধকুমর নদের তীর রক্ষা বাঁধের একাংশ ছিঁড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া হুমকিতে রয়েছে সদর উপজেলার বাংটুর ঘাট ও সারডোব তীর রক্ষা বাঁধ। এখানে চর বড়লই বাংলাবাজার এলাকায় পাকা সড়ক ভাঙনের উপক্রম হয়েছে।

আরও পড়ুন : জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি

এছাড়া নাগেশ্বরী-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পাটেশ্বরী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, উত্তর কুমরপুর মোড় ও চন্ডিপুর এলাকায় ধরলা নদীর পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় এই মহাসড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বন্যাদুর্গত এসব এলাকা পরিদর্শন করে এ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্যাপারী গ্রামে বাড়ির পেছনে খেলতে গিয়ে হাবিবুল্লাহ নামে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে ওই গ্রামের কৃষক মাহবুরের ছেলে। হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান বলেন, সোমবার বিকেল পর্যন্ত ধরলা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১০৮ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি কমে গিয়ে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

আরও পড়ুন : গাইবান্ধায় আরও ১৫ গ্রাম প্লাবিত

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি সমন্বিতভাবে মোকাবিলার জন্য রোববার রাতে পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের উপস্থিতিতে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সব বিভাগকে সক্রিয় থেকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার জেলার তিনটি বন্যাদুর্গত এলাকায় দুই হাজার পরিবারের প্রতি জনকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

নাজমুল/এএম/এমএস

টাইমলাইন