পাক প্রতিনিধির করমর্দন ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ আন্তর্জাতিক আদালতে সোমবার থেকে কুলভূষণ যাদব মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানি শুরুর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব দীপক মিত্তল এবং নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বেণু রাজা মনিয়নের দিকে এগিয়ে যান পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ার মনসুর খান।

করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দেন পাক প্রতিনিধি। কিন্তু হাত ফিরিয়ে নিয়ে শুধু হাত জোর করে ‘নমস্কার’ করেই সৌজন্য রক্ষা করেছেন দীপক মিত্তল। ফলে বাধ্য হয়ে হাত সরিয়ে নিতে হয় মনসুর খানকে।

সৌজন্যের খাতিরে ভারতীয় কূটনীতিকদের দিকে করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন পাক প্রতিনিধি। কিন্তু পাল্টা হাত না মিলিয়ে দু’হাত জড়ো করে সৌজন্য ফিরিয়ে দিয়ে হয়তো ভারতীয় প্রতিনিধিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, নমস্কারই তাদের জন্য যথেষ্ট।

জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে বৈরিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই কুলভূষণ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানেই দু'পক্ষের মধ্যে নীরব উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের প্রতিনিধি হরিশ সালভে পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক মামলা যেখানে একজন নিরপরাধ ভারতীয়র জীবন সঙ্কটে পড়েছে। পাকিস্তান যা বলছে, তা পুরোপুরি বানোয়াট। কোনও তথ্য নেই। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, পাকিস্তান পুরো বিষয়টিকে মিথ্যা প্রচারের অস্ত্র বানিয়েছে। দেরি না করে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুলভূষণের দেখা করার ছাড়পত্র দিতে হবে পাকিস্তানকে।

কুলভূষণের সঙ্গে কূটনীতিকদের যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও ১৩ বার আবেদন করেছে ভারত। তাতেও কোন কাজ হয়নি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পুরু কাঁচের দেওয়ালের ওপার থেকে কুলভূষণকে তার মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছিল পাক প্রশাসন। কিন্তু তার পরিবারকে চরম হেনস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভারতের অভিযোগ ছিল, আইএসআইয়ের শিখিয়ে দেওয়া কথা বলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন কুলভূষণ।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছরের এপ্রিলে পাক সামরিক আদালত কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, ইরান থেকে গোপনে পাকিস্তানে ঢুকেছিলেন ওই ভারতীয়। তাকে ২০১৬ সালের মার্চে গ্রেফতার করা হয়।

তবে নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় নৌবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজের ব্যবসার প্রয়োজনে ইরানে গিয়েছিলেন কুলভূষণ। সেই সময় তাকে অপহরণ করা হয়। পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি কুলভূষণকে।

এর জের ধরে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারত। দূতাবাস ও হাইকমিশনের সম্পর্ক নিয়ে ১৯৬৩ সালে ভিয়েনা সম্মেলনে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তা ‘ইচ্ছাকৃত ভাবে’ পাকিস্তান লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত।

টিটিএন/এমকেএইচ

টাইমলাইন