ঘূর্ণিঝড় ফণী : সুন্দরবন ছেড়েছেন পর্যটকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ০২ মে ২০১৯

উপকূলে ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সুন্দরবন সন্নিহিত বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোংলা উপজেলায় বৃহস্পতিবার দিনভর মাইকিং করে সতর্ক বার্তা প্রচার করেছে রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা। বিকেলে শরণখোলায় খুলে দেয়া হয়েছে ৮৬টি সাইক্লোন শেল্টার।

নিরাপত্তার কারণে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর বন বিভাগের অফিস বন্ধ করে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সরিয়ে আনা হয়েছে। করমজল ও হারবাড়ীয়া পর্যটন কেন্দ্র ছেড়েছেন পর্যটকরা।

ঘূর্ণিঝড় ফণী সুন্দরবনে আঘাত হানলে বন্যপ্রাণীর ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনপূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, সুন্দরবন বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিরাপদে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুন্দরবনের করমজল ও হারবাড়ীয়া পর্যটন কেন্দ্রের পর্যটকদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্দরে জারি রয়েছে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত। বন্দর জেটি ও আউটার অ্যাংকরেজে অবস্থানরত ১৬ জাহাজসহ সব ধরনের পণ্যবাহী লাইটার জাহাজকে বন্দরের পশুর চ্যানেল থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার দুরুল হুদা

বাগেরহাট উপকূলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মাঝে-মাঝে ঝড়ো হাওয়া বইছে। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে রয়েছে। ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার তালুকদার মোংলা ও রামপালের স্থানীয় প্রশাসনকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী এলাকা ঘুরে-ঘুরে সরেজমিনে ঘূর্ণিঝড়ের আগেই সাধারণ মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও সভা করেছে। জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানানো হয়, বাগেরহাট জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ ৯টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৬টি মেডিকেল টিম। জেলার সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার উদ্ধার কর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মজুত করা হয়েছে শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি।

শওকত বাবু/আরএআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন