ফণীর তাণ্ডব, গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন উপকূলবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ০৪ মে ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব কেটে গেছে। কিন্তু এখনও আতঙ্ক কাটেনি উপকূলবাসীর। ফণীর প্রভাবে উপকূলের সহস্রাধিক এলাকার বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে। উপকূলীয় এলাকার মানুষ জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।

ফণী শনিবার সকাল ৯টায় খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করলেও দমকা বাতাস আর বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তীব্রভাবে আঘাত না করলেও ফণীর তাণ্ডবে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার অনেক বেড়িবাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বালির বস্তা দিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে খুলনা জেলায় ৪ সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দুটি গ্রাম প্লাবিত এবং ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফণীর প্রভাবে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সব নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতা জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে দাকোপ ও কয়রা উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানের বেঁড়িবাধে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে দাকোপ উপজেলার পশুর নদীর পাশের বানিশান্তা বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এবং কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়ীয়া নদী সংলগ্ন ২ নম্বর কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালি, হরিণঘাটা, খালেরগড়া এবং আংটিহারা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) বাঁধ।

khulna-Fani2

দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হালিমা হাওলাদার জানান, বর্তমানে অমাবশ্যার (গোন) সময় চলছে। এতে পশুর নদীর জোয়ারের পানি ৩-৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডব আর পশুর নদীর জোয়ারের পানির কারণে বানিশান্তা বাজারের উত্তর পাশে ২০০ হাত বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় এ বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁধ ভেঙে গেলে ২০০ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্ট করছেন। তিনি বলেন, বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

এ দিকে ফণীর তাণ্ডব ও জোয়ারের পানির তোড়ে কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়ীয়া নদীর পাশের ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে তিন কিলোমিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে কপোতাক্ষ পাড়ের ২ নম্বর কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালি, হরিণঘাটা, খালেরগড়া এবং শাকবাড়ীয়া নদী পাড়ের আংটিহারা গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীতে কয়রা উপজেলায় ২ হাজার পরিবার ও প্রায় ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরদিকে খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে জেলায় ৪ হাজার ৬৪০টি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৯৯০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৩ হাজার ৬৫০টি ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দুটি গ্রাম প্লাবিত ও এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে টিনের চালা ভেঙে একজন আহত হয়েছেন। তবে গবাদি পশুর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এখনও ফসল ও মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

khulna-Fani2

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীতে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল তা হয়নি। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, শনিবার সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড় ফণী খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় গতকাল শনিবার দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ মানুষ সাইক্লোন শেল্টার ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।

আলমগীর হান্নান/এমএএস/এমএস

টাইমলাইন