ফণী : শুকনা খাবার পানি ওষুধ মজুতের নির্দেশ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ০২ মে ২০১৯

প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে যাতে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য শুকনা খাবার, ওষুধ, জামাকাপড় মজুত করে সম্ভাব্য আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের তৈরি থাকার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। বৃহস্পতিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এবং সংলগ্ন উপকূলবর্তী এলাকায় এনডিআরএফের সেকেন্ড ব্যাটালিয়নকে মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল থেকেই সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামগুলোতে মাইক নিয়ে প্রচার শুরু করেন এনডিআরএফের জওয়ানরা। জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে পর্যটকদের দিঘা, মন্দারমণি, শঙ্করপুর তাজপুর খালি করে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তৈরি রাখা হয়েছে এলাকার সাইক্লোন রিলিফ শেল্টাগুলোও।

সৈকত লাগোয়া গ্রামে এনডিআরএফ জওয়ানরা মাইকে প্রচার করে গ্রামের মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। তারা মাইকে প্রচার করছেন, কী কী সতর্কতা নিতে হবে মানুষকে। এনডিআরএফের ডেপুটি কমান্ডান্ট যোগেশ সিংহ বলেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পঞ্চায়েত এলাকায় কাঁচাবাড়ির একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের আশপাশের পাকা স্কুল বাড়ি বা সরকারি বাড়িতে সরে যেতে বলা হয়েছে।

এনডিআরএফের জওয়ানরা গ্রামে গ্রামে মাইকে প্রচার করছেন কেউ যেন ৩ থেকে ৫ মে পর্যন্ত সমুদ্রে না যান। বিশেষ করে ৩ মে এবং ৪ মে কেউ যেন বাইরে খোলা জায়গায় না থাকেন। পাশাপাশি প্রত্যেকেই যেন আপৎকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হাতের কাছে কিছু জামাকাপড়, শুকনা খাবার, ওষুধ এবং পানীয় জল মজুত রাখেন।

যোগেশ বলেন,আমরা তৈরি থাকতে বলেছি যাতে প্রয়োজনে তাদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। দিঘা সংলগ্ন পদিমা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বৈঠকে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে ছিলেন পঞ্চায়েতের সদস্যরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৭২ কিলোমিটার সৈকত। প্রত্যেক গ্রামে বিশেষ আপৎকালীন বাহিনী গঠন করে কাঁচাবাড়িতে থাকা বাসিন্দাদের আইলা সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা।

এদিকে, প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে অগ্রসর হতে থাকা ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়া ট্যুডে এক প্রতিবেদনে বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

দেশটির অপর সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তীব্র হাওয়া এবং বৃষ্টির জেরে অন্ধ্রপ্রদেশের রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক পোল ও গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ।

ঝড় ও বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের সন্ধানে বাড়ি-ঘর ছাড়ছেন তারা। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকদ্বীপের উপকূলীয় থানা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় কাঁচা বাড়ির বাসিন্দাদের ইতোমধ্যে আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসের ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে সন্ধ্যার দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে পৌঁছাতে পারে। তবে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে দেখা দিতে পারে শুক্রবার সকাল থেকেই। আনন্দবাজার

এসআইএস/এমকেএইচ

টাইমলাইন