ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী, আতঙ্কে উপকূলবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৭:৩২ পিএম, ০২ মে ২০১৯

উপকূলবাসীর চোখে ঘুম নেই। ক্ষেতে ফসল, ঘরে তুলতে এখনও ঢের বাকি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ফণী ফণা তুলেছে। অপেক্ষা শুধু ছোবল মারার! বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়াল ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার আশপাশের নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনার উপকূলের পাঁচ শতাধিক এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙন কবলিত। এই ভাঙন এলাকাই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে উপকূলবাসীর মধ্যে।

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবি শামসুর রহমান বলেন, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ১৪/১ পোল্ডারে গোলখালী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের মোহনায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ খুবই নড়বড়ে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। তার ওপর আসছে ঘূর্ণিঝড়। বাড়ছে কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ারের পানির চাপ। কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা, হরিণখোলা ও গোবরা পূর্বচক গ্রামের বাসিন্দারা রয়েছেন আতঙ্কে। অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ।

তিনি জানান, উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে কোনো মানুষ নিরাপদে আশ্রয়ে এখনও যাননি।

khulna02

খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়েই এই ঝড় আসবে তাই খুলনা ও পায়রা বন্দরকে ৪ নং হুঁশিয়ারি সংকেত থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের এমন খবরে সিডর-আইলা কবলিত খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, সাতক্ষীরা শ্যামনগর, আশাশুনি, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা উপজেলার লাখো মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ছোবলে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদহানির আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে মাইকিং করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিপিসি) কর্মীরা। খুলনা সার্কিট হাউজে জেলা দুর্যোগ কমিটি বিকেলে জরুরি সভা করেছে।

খুলনার আবহাওয়া কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুক্রবার (৩ মে) সকালে খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শুরু হতে পারে। আর শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে ফণী। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজসহ নৌযানগুলোকে সতর্কতাবস্থায় থাকার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় খুলনার ২৪২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এ তথ্য জানান।

khulna03

তিনি আরও জানান, খুলনার তিন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ১২৫০ ,দাকোপে ১১৩৫ ও পাইকগাছায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং ৯টি উপজেলায় ৯টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১১৪ টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আলমগীর হান্নান/আরএআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন