শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা উপকূলে আঘাত হানবে ফণী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৭:১৮ পিএম, ০২ মে ২০১৯

খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামীকাল শুক্রবার সকাল নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে। ফণী আরও ঘণীভূত ও উত্তর বা উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতর থেকে দেয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ক্রমিক নম্বর ২৮-এ এসব সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় খুলনা জেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

Fani-cyclone

সভায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় খুলনা জেলা প্রশাসন গৃহীত প্রস্তুতিসমূহ তুলে ধরে জানানো হয়, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য বলা হচ্ছে। নৌকা, ট্রলারসহ ক্ষুদ্র নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সেনা ও নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে খুলনার নয়টি উপজেলার সব ইউনিয়নে একটি ও প্রতি উপজেলা সদরে পাঁচটিসহ মোট ১১৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্যোকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী উপকরণের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ডাক্তার, নার্স ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত আছে। ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় খুলনা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর ০৪১-২৮৩০০৫১। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে ন্যাশনাল হেল্প লাইন নম্বর ৯৯৯ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে আগামী শুক্র ও শনিবার খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস খোলা থাকবে।

সভায় খুলনার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক, পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দারসহ সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় খুলনা জেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে একই স্থানে জেলা প্রশাসন জরুরিভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সে মিলিত হয়।

আলমগীর হান্নান/এএম/পিআর

টাইমলাইন