দুপুরে নামতে পারে বিপদ সংকেত, আসছে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ০৪ মে ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ দুর্বল অবস্থায় বাংলাদেশ অতিক্রম করছে। এটি শনিবার সকাল ৬টায় সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সকাল ৯টায় ফরিদপুর-ঢাকা অঞ্চলে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অবহাওয়া অধিদফতর।

দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এই অবস্থায় দুপুরে বিপদ সংকেত নামিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মানুষকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দিতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

আজ দুপুর ১টায় সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সেখানেই আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিপদ সংকেত নামানো এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশনা আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল, তথ্য সচিব মো. আব্দুল মালেক, কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ মোহসীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলনে আমরা ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরব। আমরা সার্বিক বিষয়ে তথ্য নিচ্ছি, যতটা জানতে পেরেছি ফণী এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালককেও ডাকা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের নেয়া সিদ্ধান্ত আপনাদের জানানো হবে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৮৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আবহাওয়া অধিদফতরের সঙ্গে কথাও বলেছেন কর্মকর্তারা।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিপদ সংকেত প্রত্যাহারের ঘোষণা আসবে। কারণ, বিপদ সংকেত থাকলে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া যাবে না।

mungla-

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক চিত্রও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

অপরদিকে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আরএমএম/জেডএ/জেআইএম

টাইমলাইন