তালেবান ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়েছে

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২১

কাবুলের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তালেবানের ক্ষমতার লড়াইয়ে উত্তপ্ত আফগানিস্তান। ক্রমেই রাজধানী কাবুলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর মতে, আফগানিস্তানের ১২টি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তালেবানের দখলে। এ অবস্থায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পশ্চিমা-সমর্থিত আশরাফ ঘানির সরকার। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কাবুল সরকারের তরফ থেকে তালেবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। যদিও তালেবানের নেতৃত্ব এ প্রস্তাবে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অন্যদিকে সহিংসতা বন্ধে খোদ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আফগান সরকারকে তালেবানের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে।

তালেবানের শক্তির এমন পুনর্প্রকাশ কী বার্তা দিচ্ছে? এই প্রকাশ আঞ্চলিক রাজনীতিতেই বা কী প্রভাব ফেলতে চলেছে? এ প্রসঙ্গে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এক সময় রণসাজে এলেও বাস্তবতা বুঝে সম্প্রতি ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে সেনাদের। সে সূত্র টেনে সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো আফগানিস্তান কখনোই দখল করতে পারেনি। বেশিরভাগ অঞ্চল তালেবানদের দখলেই ছিল।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বেশ আগেই বুঝেছিল আফগানিস্তান দখল করা সম্ভব নয়। কেবল পশ্চিমা মিডিয়ার কারসাজি ছিল আফগানিস্তানের রণাঙ্গন নিয়ে। তারা অসত্য খবর প্রকাশ করেছে। ওই মিডিয়া দেখাতে চেয়েছে, আফগানিস্তানে (যুক্তরাষ্ট্রের) হামলা যুক্তিসঙ্গত ছিল এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র জিতে যাচ্ছে। অথচ ঘটল উল্টো। মূলত, জনগণ সাপোর্ট না করলে যুদ্ধে জেতা যায় না, আফগানিস্তানে তাই হয়েছে। বরং সেখানে তালেবানের শক্তি সবসময়ই ছিল। এখন তার প্রকাশ ঘটছে।

jagonews24দখলকৃত এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের মহড়া

অধ্যাপক ইমতিয়াজ বলেন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ক্ষতির মুখেই আফগানিস্তান থেকে গুটিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি আরও বেশি। আফগানিস্তানের মানুষ এবারে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। আবার ক্ষতির মধ্য দিয়ে শক্তিরও বিকাশ ঘটছে। ২০ বছর আগের তালেবান আর আজকের তালেবান এক নয়। এটি বুঝতে পারার ব্যাপার।

কোন রূপে ফিরছে তালেবানরা, এমন প্রশ্নের বিশ্লেষণে তিনি বলেন, এখনই বলা মুশকিল, তবে সময় এসেছে প্রায়। তালেবান সফট (সহজ) হতে পারে আগের থেকে। কাতার, চীনের সঙ্গে বৈঠক করে তা-ই বুঝিয়েছে তারা। অন্তত অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভুল করবে না, (১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তালিবান শাসনের অবসান ঘটানো হয়)। নানা পক্ষ থেকে শক্তি নিয়েই তারা এই অর্জন করেছে বলে মনে করি। সৌদি আরবও নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। আমাদেরও আশা থাকবে, তারা পরিপক্কতার পরিচয় দিক।

তালেবান প্রশ্নে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চীন আগের জায়গায় নেই। তারা ব্যবসা চায়। চীন (আফগানিস্তান প্রশ্নে) ভূমিকা রাখবে। হাজার বছরের সম্পর্ক চীনের সঙ্গে আফগানিস্তানের। সিল্ক রুট (প্রাচীনকালে চীনের ব্যবসায়ীরা এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে ‘সিল্ক রুট’ দিয়ে ব্যবসা করতেন, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে এমন একটি বাণিজ্যিক পথের পুনরুত্থান ঘটাচ্ছে বেইজিং) আফগানিস্তান হয়েই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার কারণে চীন স্বস্তিতে আছে। ইরানের মতো অবস্থানে যেতে পারে আফগানিস্তান। আর সেটা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই। ইরানের মতো আফগানিস্তানের সভ্যতাও কয়েক হাজার বছরের।

jagonews24আফগানিস্তানের ১২টি প্রাদেশিক রাজধানী এখন তালেবানের দখলে

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আফগানিস্তানে গত ২০ বছরে একটি প্রজন্মের পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির আর্থ-সামাজিক অবস্থাও পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক কিছুই নির্ভর করবে এখন। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়েছে। ঠিক ভিয়েতনামের মতোই ব্যর্থ।

তালেবান প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তানের অবস্থানের বিষয়ে এই কূটনীতি বিশ্লেষক বলেন, তালেবানরা ভারতের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এখান থেকে ভারতেরও শিক্ষা নেওয়ার আছে। কারণ তারা কাবুল সরকারের সঙ্গে যেভাবে একতরফা সম্পর্ক রাখছিল, তাতে এবার ভাটা পড়তে পারে। অপরদিকে একই অবস্থান থেকে পাকিস্তান কিছুটা স্বস্তিতে থাকবে বলে মনে করি। কারণ পাকিস্তান আফগান সরকারের পাশাপাশি তালেবানদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখবে।

এএসএস/এইচএ/এএসএম

মিডিয়া দেখাতে চেয়েছে, আফগানিস্তানে (যুক্তরাষ্ট্রের) হামলা যুক্তিসঙ্গত ছিল এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র জিতে যাচ্ছে। অথচ ঘটল উল্টো। মূলত, জনগণ সাপোর্ট না করলে যুদ্ধে জেতা যায় না, আফগানিস্তানে তাই হয়েছে। বরং সেখানে তালেবানের শক্তি সবসময়ই ছিল। এখন তার প্রকাশ ঘটছে

তালেবান সফট (সহজ) হতে পারে আগের থেকে। কাতার, চীনের সঙ্গে বৈঠক করে তা-ই বুঝিয়েছে তারা। অন্তত অভিজ্ঞতা থেকে তারা ভুল করবে না

টাইমলাইন  

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]