ইভিএম কারচুপির আতঙ্কে বিরোধী দলগুলো, কড়া নজরদারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২১ এএম, ২২ মে ২০১৯

ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিন আগে ইভিএম কারচুপির আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। আজ (বুধবার) রাতেই বদলে দেয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের তথ্য- ভারতের নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এমন অভিযোগ করলেন দক্ষিণ দিল্লি লোকসভা কেন্দ্রে আম আদমি পার্টির প্রার্থী রাঘব চাড্ডা।

চিঠিতে রাঘব চাড্ডা জানিয়েছেন, আজ রাতেই ইভিএম কারচুপির চেষ্টা চলবে। এই নিয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। এই নিয়ে ২০১৭ সালের পৌর নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, পৌর নির্বাচনের সময় দক্ষিণ দিল্লিতে স্ট্রং রুমে ঢুকে সিল ভেঙে ইভিএমে কারচুপি করা হয়েছিল। সেই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করুক নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনীকেন্দ্র বারাণসীর পাশের কেন্দ্র চান্দৌলিতে একটি গাড়িতে করে গণনাকেন্দ্রে ইভিএম রাখার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলে উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরে বিক্ষোভে শুরু করেছেন এই কেন্দ্রের জোটপ্রার্থী এবং বহুজন সমাজ পার্টির নেতা আফজল আনসারি।

in

ইভিএম কারচুপির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ইউপিএ নেতাদের আলোচনা।

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যরা অভিযোগ তুলছে, ইভিএম কারচুপির ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন চুপ করে আছে। ইতোমধ্যে সাত দফার লোকসভা নির্বাচনের ভোটপর্ব মিটতেই ইভিএম কারচুপির অভিযোগ নিয়ে এককাট্টা দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে সেই বিতর্কে ইন্ধন জোগালো উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলিতে একটি গণনাকেন্দ্রে ট্রাকে করে ইভিএম নামানোর ভিডিও ফুটেজ।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গণনাকেন্দ্রের মধ্যেই একটি ঘরে ট্রাকে করে ইভিএম নামানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের দুদিন পর কেন গণনাকেন্দ্রে ইভিএম ঢোকানো হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করতেই শোনা যাচ্ছে সমাজবাদী পার্টিকর্মীদের।

in

নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকাতে একাট্টা বিরোধীরা, মহাজোট গঠনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ।

অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ৩৫টি ইভিএম নির্বাচনের দিন ‘রিজার্ভ’ বা অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল। যাতায়াতের সমস্যার জন্য এই ইভিএম গণনাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়েছে।

চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজীপুরেও। বহুজন সমাজ পার্টির অভিযোগ, একটি ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে ট্রাকে করে ইভিএম বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। এরপরই ওই গণনাকেন্দ্রের বাইরে ধর্নায় বসেন এই কেন্দ্রের জোটপ্রার্থী এবং বহুজন সমাজ পার্টির নেতা আফজল আনসারি। যদিও বিরোধীদের তোলা ইভিএম কারচুপির অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে গাজীপুর প্রশাসন।

in

বুথফেরত জরিপ বলছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।

এদিকে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির প্রধান নরেশ উত্তম প্যাটেল রাজ্যের সমস্ত স্ট্রং রুমে কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের। এই জন্য সমাজবাদী পার্টিকর্মীদের আট ঘণ্টার শিফ্টও তৈরি করে দিয়েছেন। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একই নির্দেশ পাঠিয়েছে বহুজন সমাজ পার্টিও। কংগ্রেস কর্মীদেরও একই পরামর্শ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।

গত রোববার ভারতে প্রায় দেড় মাসব্যাপী লোকসভা নির্বাচনের সমাপ্তি ঘটে। সেদিন সন্ধ্যা থেকে বুথ ফেরতের জরিপ আসতে থাকে। তাতে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে ফের দিল্লির ক্ষমতায় আসছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট। ২৩ মে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

বিএ

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :